পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যের মৃত্যু
নোয়াখালী শহরের চন্দ্রপুরে হোন্ডা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে। অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের দেখে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে কিশোর গ্যাং সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সুধারাম থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, কিছুদিন পূর্বে চন্দ্রপুর আহমদ মঞ্জিলের নিচতলা থেকে জনৈক আবদুল কাইয়ুমের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। কাইয়ুম পার্শ্ববর্তী টিভি সেন্টার এলাকার আতাউর রহমানকে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করে।
আরো পড়ুন: ঘুষের টাকা ফেরত দিতে আসামিদের পরিবারের পেছনে ঘুরছেন সেই এসআই
বুধবার রাত ৯টায় এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাজু, বাবু, বাবুল, শাকিলসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে নিয়ে আতাউর রহমানের বাসায় গিয়ে তার হাত পা ও মুখ বেঁধে তাকে অপহরণ করে মাইজদী আহম্মদ মঞ্জিলের চার তলায় এনে আটকে রেখে মারধর করে এবং ইলেকট্রিক শর্ট দেয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এই ফাঁকে কিছু সন্ত্রাসী আতাউর রহমানের বাসায় গিয়ে তার বাসার ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে আসে।
রাত ২টার দিকে এ খবর সুধারাম থানার ওসির কাছে পৌঁছলে তিনি একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ দেখে ভবনের পেছন দিক দিয়ে পাইপ বেয়ে নামার সময় কিশোর গ্যাংয়ের রাজু ও বাবু নিচে পড়ে যায়।
আরো পড়ুন: থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই ভাগ্নে-ভাগ্নিকে গলা কেটে হত্যা
আহমদ মঞ্জিলের চার তলায় উঠে অপহৃত আতাউর রহমানকে উদ্ধার করে এবং লুট করে আনা একটি ফ্রিজ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আবদুল কাইয়ুম, বাবুল, নাছির আহাম্মদ শাকিল, আতাউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (সদর) মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি নবীর হোসেন আরো জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ওই ভবনের পেছনে পড়ে যাওয়া রাজু ও বাবুকে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাবুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।