নগরীর বেসরকারি রয়্যাল হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু সার্জারি) ডা. সিরাজুল ইসলামের বিপক্ষে এ অভিযোগ আনেন মৃতের স্বজনেরা।
নিহত শিশু মুনতাহার, পিতা- মো. সোহেল রানা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
.png)
অভিযোগে বলা হয়- আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত দেড় বছর বয়সী মুনতাহারকে নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখে ডা. সিরাজুল ইসলামের শরণাপন্ন হন তার মা-বাবা।
এসময় ডা. সিরাজুল রোগীকে তার অধীনে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং সেইসাথে অস্ত্রোপচার করা না হলে শিশুর দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ্য করেন।
ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক রোগীকে পরের দিনই সকাল ১০টায় রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐদিনই বিকাল ৩টায় অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর বিকাল ৩টার পরিবর্তে দুপুর ২টা ২২মিনিটে অপারেশন শুরু করেন ডা. সিরাজুল ইসলাম।
অস্ত্রোপচার শেষে বিকাল ৪ টায় রোগীর মুমূর্ষু অবস্থা স্বত্বেও তাকে পর্যবেক্ষণ কক্ষে না রেখে সাধারণ কেবিনে রাখা হয়। এরপর অসংখ্যবার রোগীর শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ ডাক্তারকে অবহিত করা হলেও সংশ্লিষ্ঠ ডাক্তার কিংবা অন্য কোন ডাক্তারসহ রোগীকে দেখতে আসেননি হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কেউই।

এভাবে রাত পার করার পর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় পুনরায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আনুমানিক সকাল ৯:৫০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয় শিশু মুনতাহারকে। উল্লেখ্য, এদিন সকালে অপারেশন থিয়েটারে ডা. সিরাজুল ইসলাম কালবিলম্ব করেন বলে জানা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের মামা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দপ্তরে বিষয়টি কেন অবহেলা করা হয়েছে জানতে চান এবং অবহেলার কারনেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অবগত করেন।
তাৎক্ষনিক হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ হতে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য অর্থ গ্রহনের জন্য বলা হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিহতের বাবা মো. সোহেল রানা রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতালের পরিচালক ও অভিযুক্ত ডা. সিরাজুল ইসলামকে প্রাপক করে অত্র প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তারের অধীন অপারেশনে অনভিজ্ঞতা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় রুগীর মৃত্যু হওয়ার কারণ দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে হাসপাতাল বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন।
চিঠিটির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, রাজশাহী সিভিল সার্জন, রাজশাহীর সকল স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর নিকট প্রেরণ করেছেন জনাব রানা।

উক্ত চিঠিতে প্রশাসন বিভাগের টাকা ফেরত প্রদান সাপেক্ষে মৃতের ঘটনা মিমাংসার চেষ্টাকে উল্লেখ্য করা হয়। সেইসাথে কেবলমাত্র ডা. সিরাজুল ইসলামের অনভিজ্ঞতা, দায়িত্বহীনতা ও অবহেলাই শিশুটির অপমৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ কামরুজ্জামান রয়্যাল হাসপাতালে সশরীরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। সেখানে তাকে মিমাংসার কথা ও টাকা প্রদানের কথা স্বীকার করে হাসপাতাল প্রশাসন।
এর প্রেক্ষিতে ডা. সিরাজুল ইসলামের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার দরুন শিশুটির অপমৃত্যু ঘটে থাকতে পারে এই মর্মে প্রত্যয়ন করেন জনাব কামরুজ্জামান।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়।