১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ৬টি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হবে।
প্রাথমিকভাবে চলতি অর্থবছরে এই দুটি বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
.png)
মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু কুমার পাল জানান, এরই মধ্যে গাংনীর ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কের পাশে ও সাহারবাটি টেবুখালির বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া একই উপজেলার কাজীপুর সীমান্তে ৬ গণকবর, বামন্দী গণকবর, সদর উপজেলার মেহেরপুর সরকারি কলেজ মোড়ে এলাকায় কবরস্থানের পশ্চিম পাশের গণকবর ও মুজিবনগর উপজেলার মাঝপাড়াতে অবস্থিত গণকবরটিকে বধ্যভূমির আওতায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়ার পর গণপূর্ত বিভাগ এরই মধ্যে সার্ভে করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
এদের মধ্যে গাংনী উপজেলার বামন্দীর গণকবরটির স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে ও মুজিবনগর উপজেলার মাঝপাড়ার গণকবরটির সাইট প্ল্যান তৈরি এবং ডিজিটাল সার্ভের হার্ড ও সফট কপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে মেহেরপুর শহরের কবরস্থানের পাশের বধ্যভূমিতে এরই মধ্যে মেহেরপুর পৌরসভা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে।
গাংনী উপজেলার কাজীপুর সীমান্তে ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর এ প্রকল্পের আওতায় আনা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানানো হয়, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিধায় ওখানে নতুন কোনো স্থাপনা করা যাবে না।
নতুন করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দিনের সন্তান বুলু মণ্ডল ও গাংনী উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুনতাজ আলী।
তারা বলেন, পাক হানাদার বাহিনী আমাদের বাবাসহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এনে এখানে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। কয়েকদিন পর এই ৮ শহিদ মুক্তিযোদ্ধার জন্য দুটি কবর খুঁড়ে মাটি দেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন পর তাদের কবরগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। এবার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হচ্ছে আমরা দেখে যেতে পারছি। সত্যিই আজ আমরা গর্বিত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার নুরুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার গণকবরগুলোকে সংরক্ষণ করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এজন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জেলার সবগুলো বধ্যভূমিই এ প্রকল্পের আওতায় এনে সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন করবে সে প্রত্যাশা করছি আমরা।