ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কিশোরগঞ্জে গৃহবধূ হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
কিশোরগঞ্জে গৃহবধূ হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
কিশোরগঞ্জে গৃহবধূ হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গৃহবধূ রুবা আক্তার হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুর রহিম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া মোড়লপাড়ার মো. তাহেরের ছেলে লুৎতু রুকন, মীর হোসেনের ছেলে মো. সোহরাব, তার ছেলে মো. শরিফ ও তার স্ত্রী মোছা. জোসনা এবং ফালু মিয়ার ছেলে মুসলিম এবং তার স্ত্রী নূর নাহার।

Advertisement

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১১ সালে মে মাসের দিকে জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া মোড়লপাড়ার গ্রামে আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. শামীমের সঙ্গে দাদা দাদীর অসিয়তে একই গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকীর মেয়ে রুবা আক্তারের বিয়ে হয়। প্রথম থেকে শামীম ও তার দুই চাচা সোরাব ও মুসলিম এ বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পরে দাদা দাদীর অসিয়ত রক্ষায় রুবাকে বিয়ে করেন শামীম। বিয়ের ১৫ দিন পরই শামীম তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে খবর দেয় যে তার স্ত্রী রুবা ঘরে নেই। রুবার নিখোঁজের খবর পেয়ে রুবার বড় ভাই আলামিন রুবাকে খুঁজতে শামীমদের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে রুবাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে।

পরে রাতে শামীমের বাড়ির পাশের ডোবায় শামীমের চাচতো ভাই লুৎতু, শরীফ ও চাচা সোরাব রুবার লাশ দেখতে পায়। রুবার লাশ উদ্ধার করে তারা শামীমের বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই দিন রাতের যে কোনো সময় রুবাকে হত্যা করে লাশ গুম করে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে ধারণা করে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ থানায় নেয়।

এ ঘটনার একদিন পর ৪ জুন নিহত গৃহবধূ রুবা আক্তারের বড় ভাই মো. আলামিন রুবার স্বামী মো. শামীমসহ সাতজনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খন্দকার শওকত জাহান ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজাহান এ রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!