রোববার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় দেন। এ সময় সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- বাল্কহেডের দুই ফিডারম্যান (ইঞ্জিনমিস্ত্রী) তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, মজিবর, জলিল, আবদুল মান্নান, আরিফ, সাইফুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম।
.png)
এ মামলার ১২ আসামির মধ্যে জলিল, সাইফুল, দুলাল ও ইব্রাহিম পলাতক। এছাড়া মামলা চলাকালীন শফিকুল ইসলাম নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেটফজলুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহ পরাণ নামে একটি বাল্কহেড সিলেট থেকে পাথর নিয়ে মুন্সিগঞ্জের সিমেন্ট কারখানায় যায়। পাথর খালাস করে ২১ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। পরে দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনকে ডেকে আনেন চালক নাসির মিয়া। মেরামত শেষে ফিডারম্যানরা বাল্কহেডটি পরীক্ষা করার কথা বলে ওই রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বক্তাবলীর চরে নিয়ে যায়। এরপর রাতের কোনো এক সময় তারা বাল্কহেডের চালক নাসির মিয়া, কর্মচারী মঙ্গল, ফয়সাল ও হান্নানকে গলা কেটে হত্যার পর লাশের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়। পরে মেঘনা নদী থেকে বাল্কহেডের চালক নাসির মিয়া, কর্মচারী মঙ্গলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাল্কহেডটিও বক্তাবলীর চরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি আরো জানান, ওই ঘটনার পরদিন বাল্কহেডটির মালিক এরশাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনসহ সাত আসামীকে গ্রেফতার করে। পরে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ফতুল্লা থানার এসআই বদরুল আলম। আদালত যুক্তিতর্ক ও ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।