মায়ের কাছে যাওয়ায় ছাত্রকে বেদম পিটুনি মাদরাসা শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মুহাম্মদ ইয়াসিন ফরহাদ নামে এক মাদরাসাছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন মাদরাসার হুজুর। পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
হাটহাজারী পৌর এলাকার কনক কমিউনিটি সেন্টারের কাছে অবস্থিত মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাদরাসার হুজুর হাফেজ মুহাম্মদ ইয়াহিয়াকে আটক করে ছেড়ে দেয়া হয়।
হুজুরকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করলেও পিটুনির শিকার মাদরাসাছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি প্রতিকার না চেয়ে উল্টো লিখিতভাবে শিক্ষককে ছেড়ে দিতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
.png)
জানা যায়, মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমিতে ওই ছাত্র হেফজ বিভাগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রের মা ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় যান। বিকেল ৫টার দিকে চলে যাওয়ার সময় ছেলে মায়ের সঙ্গে যেতে কান্নাকাটি করে। একপর্যায়ে ছেলে কান্না করতে করতে মায়ের পিছু নিয়ে মাদরাসা থেকে ২০০ মিটার দূরে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের কনক কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যায়। এ সময় হুজুর হাফেজ মুহাম্মদ ইয়াহিয়াও পিছু গিয়ে ছাত্র ফরহাদকে ধরে নিয়ে মাদরাসায় নিয়ে আসতে থাকেন।
ছাত্র আসতে না চাইলে তাকে টেনেহিঁচড়ে মাদরাসায় নিয়ে এসে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটাতে থাকেন। পেটানোর দৃশ্য সেখানকার এক স্কুলছাত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। বিষয়টি দেখে রাত দেড়টার দিকে হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন পুলিশ টিমসহ মাদরাসায় গিয়ে মাদরাসার হুজুরকে আটক করেন। এ সময় খবর দেয়া হয় ছাত্র ফরহাদের পরিবারকে। পরে হুজুরকে ইউএনও’র কার্যালয়ে নেয়া হয়।
মাদরাসার পরিচালক মাওলানা এমরান সিকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি মাদরাসায় ছিলাম না। ছাত্রের মা মাদরাসায় তাকে দেখতে আসেন। চলে যাওয়ার সময় সে কান্না করে মায়ের পিছু নেয়। একপর্যায়ে হুজুর তাকে টেনে-হিঁচড়ে মাদরাসায় এনে নির্মমভাবে পিটুনি দেন। বিষয়টি ভিডিওতে দেখে আমার চোখেও পানি আসে। আমাদের প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত। এখানে আগে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটিই প্রথম ঘটনা। ঘটনা জানার পরপরই আমি হুজুরকে বহিষ্কার করেছি। শিক্ষার্থীর পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে আমি সহযোগিতা করবো।