গত বছরের এই দিনেও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্টে ছিল কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা। কাস্টমস-ইমিগ্রেশনে থাকতো মানুষের দীর্ঘ সারি। মানুষের হাকডাকে মুখরিত থাকতো চেকপোস্টের গেইটটি। একটি বছরের মধ্যে পাল্টে গেছে দর্শনা চেকপোস্ট এলাকার পুরো চিত্র। এখন আর নেই আগের মতো কোলাহল। মানুষের মধ্যে নেই ব্যস্ততা।
মহামারির প্রভাবে প্রথম ১৩ মার্চ ভারত সরকার এ চেকপোস্টটি বন্ধ করে দেন। এরপর ২৭ মার্চ থেকে দুই দেশের সরকারই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় হয় দর্শনা চেকপোস্ট। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সহজ যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনশূন্য হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। কর্মহীন হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের চেকপোস্ট নির্ভর কয়েক হাজার মানুষ। অনেকে করেছে পেশা পরিবর্তন, অনেকে রয়েছে চেকপোস্ট খোলার অপেক্ষায়। পরিবহন শ্রমিক, আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীরা, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস কর্মীসহ অটো চালকরা পড়েছে সবথেকে বেশি বিপাকে।
.png)

১৯৪৭ সালে স্থাপিত হয় চেকপোস্টটি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় ১৯৭৮ সালে চালু হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে এক ঘণ্টার জন্যও পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত বন্ধ হয়নি।
ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পাসপোর্টধারী এ পথটি ব্যবহার করতেন। পাসপোর্টধারীদের মতোই বিপাকে পড়েছে এর উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ।
চেকপোস্ট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ জানান, ইমিগ্রেশনের পাশেই তার দোকান রয়েছে। মহামারির প্রভাবে চেকপোস্ট বন্ধ হওয়ার পর থেকেই তার দোকানও বন্ধ রয়েছে। এক বছর ধরে দোকান বন্ধ থাকায় জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

চেকপোস্ট বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব খাতেও। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে সরকারের। দর্শনা শুল্ক স্টেশনের উপ কমিশনার শাফায়েত হোসেন জানান, গত অর্থবছরে এ চেকপোস্ট দিয়ে সাড়ে ২৬ হাজার যাত্রী যাওয়া আসা করেছে। সে হিসেবে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করেছিল সরকার। তবে চলতি অর্থবছরে পুরো সময়জুড়ে চোকপোস্ট বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
এদিকে পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দুই দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি চালানের মাধ্যমে পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ ও আদা আমদানি হয়েছে। যার ফলে সরকার রাজস্ব অর্জন করেছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।