এদিকে থানা পুলিশের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নির্যাতনের ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি মামলা করেছেন। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্রানুসারে, উপজেলার গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের অসহায় কৃষক বারেক চৌকিদারের মেয়ে সাদিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার গুঙ্গিয়াকুল গ্রামের কাসেম মোল্লার প্রবাসী ছেলে নাসির মোল্লার প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামী নাসির মোল্লা স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু সাদিয়ার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়।
.png)
এতে করে যৌতুক লোভী স্বামী নাসির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে সাদিয়ার দু’চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়াও তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতিত গৃহবধূর পরিবার খবর পেয়ে উপজেলার ডাসার থানা পুলিশের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত সাদিয়ার মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে স্বামী নাসির মোল্লাসহ আটজনকে আসামি করে ডাসার থানায় একটি মামলা করেছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে আছেন।
মা পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে জামাই নাসিরের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে দিনের পর দিন মারধর করে। তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার মেয়ের চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করে। তাই আমি তাদের নামে মামলা করেছি।
তবে অভিযুক্ত নাসির মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ডাসার থানার এসআই মো. রিপন মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে ওই গৃহবধুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি এবং এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।