নিহত ইমন পাঠান ওই গ্রামের কাসেম পাঠানের ছেলে ও সাকিব বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সাকিব মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে এইচএসসি ও ইমন এসএসসি পাশ করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত পরাজিত পৌর কাউন্সিলর প্রার্থী মিন্টু প্রধানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরো কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইভটিজিং নিয়ে একে অপরকে দায়ী করে ইমন পাঠান একই এলাকার অভিকে চড়-থাপ্পড় মারে। পরে ইমন পাঠান পক্ষের বড় ভাই মিন্টু আবার অভিকে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মারে। বুধবার রাতে এ ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
.png)
পরে এই নিয়ে রাতে উভয় পক্ষ আপোষ-মিমাংসায় বসে। মিন্টুর বাড়ির সামনে জামালের দোকান প্রাঙ্গণে সালিশ বৈঠকটি হয়। এই বৈঠকে মিমাংসাও হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যায়ে অভি গ্রুপের লোকজন আকস্মিক তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং বৈঠকে থাকা লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মুন্সিগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, সৌরভ, অভি ও শামীম গ্রুপ এই হামলার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ এই তিনজনের কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত সৌরভের বাবা জামাল প্রধান রয়েছেন।
ওসি জানান, প্রথমে ছুরিকাহত তিনজনকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে পেটে ও বুকে জখম ইমন পাঠানকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পেটে ও বুকে জখম সাকিব মিয়া ও বুকে ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত আওলাদ হোসেন মিন্টুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পর সাকিব মিয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসপি আব্দুল মোমেন পিপিএম জানান, বুধবার রাত সাড়ে দশটায় একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সালিশি বৈঠক বসে উত্তর ইসলামপুর এলাকায়। সেই সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিন্টু প্রধান ও জামাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধারালো ছুরির আঘাতে মিন্টু প্রধান গ্রুপের ইমন পাঠান নিহত হয়। গুরুতর আহত সাকিব ও মিন্টু প্রধানকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠালে সেখানে সাকিব মারা যায়। এই ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।