প্রমোশনের জন্য শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতেই ধরা পড়ল প্রতারক জামাই
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতারণা করে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করা মাসুম চৌধুরী আপন নামে এক ভুয়া মেজরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। প্রমোশনের কথা বলে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের কাছে টাকা চাইতেই ধরা পড়ে সে।
দুইদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এর আগে, মঙ্গলবার প্রতারক আপনের বিরুদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মঠবাড়িয়া থানার এসআই সজল। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল আজাদ শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, ঐ উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা কথিত ঘটক সেলিনা বেগম সম্প্রতি প্রতারক মাসুমকে নিজের খালাতো ভাই সাজিয়ে তুষখালী গ্রামের এক কলেজছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। এ সময় মাসুম নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দেয় এবং তার দুই বোন ডাক্তার বলে জানায়। এতে ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের লোকজন বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। নভেম্বরের ১ তারিখে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর অজ্ঞাত একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়।
.png)
গত ৬ নভেম্বর ভুয়া মেজর প্রতারক মাসুম ওই কলেজছাত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি মঠবাড়িয়ার ফুলঝুড়িতে বেড়াতে আসে। এরপর তার প্রমোশনের কথা বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। তখন তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঐ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বাদী হয়ে প্রতারক মাসুম ও ঘটক সেলিনাকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা করেন। প্রতারক মাসুম সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার পূর্বপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. নূরুল ইসলাম বাদল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক মাসুম চৌধুরী আপন মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এখনি কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।