ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পুরুষশূন্য গ্রাম, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিল পুলিশ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৫৪, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১
পুরুষশূন্য গ্রাম, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে প্রসব বেদনায় কাতরাছিলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু নির্বাচনী সহিংসতার কারণে গ্রাম ছিল পুরুষশূন্য। তাই পরিবরের কোনো পুরুষ সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরাই অন্তঃসত্তা ওই নারীকে স্থানীয় হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন লুবনা খাতুন নামের ওই নারী। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গজালিয়া গ্রামের ইউসুফ হোসেনের স্ত্রী।

জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার বর্নি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার রাতে ১নং ওয়ার্ডের পরাজিত দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী খায়রুল আমিন ও মনির শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গ্রেফতার আতঙ্কে গজালিয়া গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।

Advertisement

এ অবস্থার মধ্যরাত ২টায় ওই গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ প্রসব উঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে ওই পরিস্থিতিতে এলাকায় পরিচিত কোনো ইজিবাইক ও ভ্যান চালকদের পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন অবস্থায় একটি গাড়ির অপেক্ষায় প্রসবজনিত ব্যথায় কাতর নারীসহ তার স্বজনরা দেড় ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়ায়ে ছিলেন। তখন টুঙ্গিপাড়া থানার পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে টহল কাজে নিয়োজিত ছিলেন এসআই কামরুল ইসলাম।

গভীর রাতে রাস্তায় নারীসহ কয়েকজনকে দেখে গাড়ি থামিয়ে  জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তখন জানতে পারেন প্রসবজনিত ব্যথায় আক্রান্ত ওই নারী গাড়ি না পাওয়ায় হাসপাতালে যেতে পারছেন না। এরপর তিনি কোনো বিলম্ব না করে পুলিশের গাড়িতে করে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গর্ভবতী নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টুঙ্গিপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে পুলিশের গাড়িতেই গর্ভবতী নারীকে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে লুবনা খাতুন নামের ওই গৃহবধূ একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান প্রসব করেন।

প্রসূতির স্বামী ইউসুফ হোসেন বলেন, পুলিশের এই মহতী উদ্যোগের কারণে দুইটি প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। আমাদের সংসারে হাসি ফুটেছে। এজন্য পুলিশের প্রতি আমরা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, প্রসূতি ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। বর্তমানে মা ও মেয়ে দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথম টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোপালগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তখন পুলিশের গাড়িতেই তাকে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে পৌঁছে দেই। মূলত মানবিক কারণে ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমি এ কাজটি করেছি বলে তিনি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!