মৃত মহুয়া বাগেরহাট সদর থানা এলাকার শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। খুলনার খালিশপুরে নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে খালিশপুর থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
.png)
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় মহুয়া একটি নোট লিখে গিয়েছেন। তাতে পরিবারের এক সদস্যের প্রতি ঘৃণার কথা লিখেছেন। এছাড়া তার মৃতমুখ না দেখার জন্যও সেই সদস্যকে নিষেধ করেছেন সুইসাইড নোটে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর তার হাত ও পায়ের নখ কিছুটা নীল বর্ণ ধারণ করেছিল। এটা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ব্যতীত পুলিশ কিছু বলতে রাজি হয়নি।
আরো পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ১৪ ঘণ্টা ভেসে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরলো জাহাজ
খালিশপুর থানার এসআই মো. শওকত আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুর ও রাতে কোনো খাবার গ্রহণ করেননি মহুয়া। রাতে ঘরে দরজা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ (বুধবার) সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয় পরিবার। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রির্পোট তৈরি করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহুয়ার মা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর খালিশপুর আলম নগর এলাকার নানাবাড়ি থেকেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া নিহতের শরীরে কোনো আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তার এক নিকট আত্মীয় জানিয়েছেন, সম্প্রতি কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন মহুয়া। একপর্যায়ে মহুয়া মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
তার সহপাঠীরা বলেন, মহুয়া তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটা অঙ্কের বেতন বকেয়া থাকার কারণে হয়তো তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, বেতন বকেয়া থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়। কী কারণে মহুয়া পরীক্ষায় অংশ নেননি তা বলা সম্ভব নয়।