ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘর পোড়া অসহায় দম্পতি পেলেন নতুন রঙিন ঘর 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৯, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
ঘর পোড়া অসহায় দম্পতি পেলেন নতুন রঙিন ঘর 
ফজল হোসেন-তানিয়া দম্পতির চোখে মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউপির ধোপাপাড়া গ্রামের ফজল-তানিয়া দম্পতির থাকার একমাত্র ঘর সহ সব কিছু বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে পুড়ে যায়। গত শনিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।  এরপর থেকেই অন্যের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছিলেন তারা।

বিষয়টি নজরে আসে ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ফেসবুক বন্ধুদের সহযোগিতায় এই দম্পতিকে গড়ে দিলেন নতুন রঙিন ঘর। 

শনিবার  দুপুর ২টার দিকে মেরামতকাজ শেষে ফজল হোসেন ও তানিয়া দম্পতির কাছে ঘরটি হস্তান্তর করেন মামুন বিশ্বাস। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

Advertisement

আরো পড়ুন >>> রোববার থেকে ঢাকামুখী ময়মনসিংহ বিভাগের গণপরিবহন বন্ধ 

এ সময় ঘর ছাড়াও এই দম্পতিকে দেওয়া হয়েছে শীতের লেপ-তোশক, থাকার চৌকি, শীতের পোশাক, রান্নার জন্য হাড়ি-পাতিল, খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচাবাজারসহ নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকাও। ঘরসহ সব কিছু পাওয়ার আনন্দ যেন প্রকাশ করবার নয় বলছেন ফজল হোসেন ও তানিয়া দম্পতি। তাদের চোখে মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। 

নতুন ঘর পেয়ে ফজল হোসেন-তানিয়া দম্পতির চোখে মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। 

ফজল-তানিয়া দম্পতিকে ঘর হস্তান্তর করার সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) সদস্য শামীম রেজা, স্বেচ্ছাসেবী জিল্লুর তালুকদার, আব্দুর রহিম, ইসমাইল হোসেন সহ স্থানীয় যবুকেরা। 

নতুন রঙিন ঘর পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফজল হোসেন বলেন, ‘আমি এমনিতেই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতাম। তার ওপরে আগুনে ঘর সহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে আমি নতুন রঙিন ঘর পাবো, তাও আবার এত তাড়াতাড়ি। এত সুন্দর ঘরে থাকতে পারবো। আমি ঘর, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকাসহ সব কিছু পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকবো আপনাদের সবার জন্য দোয়া করবো।

 নতুন ঘর পেয়ে ফজল হোসেন-তানিয়া দম্পতির চোখে মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। 

আরো পড়ুন >>> জানালা ছাড়াই ঢুকবে আলো, মুসল্লিরা উপভোগ করবে রোধ-বৃষ্টি

দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান ও সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানান, অসহায় ফজল-তানিয়া দম্পতির আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিস্তারিত ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই। ফেসবুকের কল্যাণে সংগ্রহীত ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে খুব দ্রুত ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করে আজ তাকে ঘরটি বুঝিয়ে দিলাম। 

তিনি আরো বলেন, আসলে আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি তাহলে আমাদের সমাজে অবহেলিত কোনো মানুষ থাকবে না। আমাদের সবাইকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা দরকার। তিনি আরো জানান, আমি শুধুমাত্র চেষ্টা করি ফেসবুক বন্ধুরা এগিয়ে আসে বলেই প্রতিটি মানবতার কাজের জয় হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!