বুধবার বেলা দেড়টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে শুনশান পরিবেশ। ৬ জন শিক্ষক স্কুলের বারান্দায় বসে আছেন। আর একজন শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন।
পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী বসে আছে বেঞ্চে। একজন শিক্ষক তাদের ইংরেজি পড়াচ্ছেন। আর ব্লাকবোর্ডে লেখা রয়েছে উপস্থিত শিক্ষার্থী ২ জন এবং অনুপস্থিতি ২৫ জন শিক্ষার্থী।
.png)
আরো পড়ুন >>> দ্রুত বিয়ে হওয়ার দোয়া
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৩৩ সালে প্রায় ৫১ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৩৭ নম্বর পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৫ জন। বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। করোনার কারণে বিদ্যালয়ে বিশেষ পাঠদান চলছে। প্রতিদিন দেড়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। আর বুধবার সকালে ছিল চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান। এদিনে পঞ্চম শ্রেণিতে ২৭ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ৩২ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলো।
আরো পড়ুন >>> ‘তুই’ বলা নিয়ে ঝগড়া, সালিশ করতে গিয়ে জখম হলেন ইউপি সদস্য
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে এলাকায় দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারে দুপক্ষের চলছে হামলা ও ভাঙচুর। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে এক পক্ষের একজন খুন হয়। খুনের ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আর হামলা, মামলা ও ভাঙচুরের ভয়ে পালিয়েছে গ্রামবাসী। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আসেনি। তবে চাকরি বাঁচাতে শিক্ষকরা এসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. তামান্না ইয়াসমিন বলেন, এলাকায় দুপক্ষের সংঘর্ষ চলছে। ভাঙচুর ও হামলা চলছে। একজন খুন হয়েছে। তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আসেনি। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে এলাকায় আধিপত্য চলছে। চলছে হামলা ও ভাঙচুর। দিনেদিনে গ্রামে মানুষ কমছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন >>> শিমু বেঁচে থাকতে হারিয়েছেন শিল্পী সমিতির সদস্য পদ, মৃত্যুর পরদিনই সদস্য
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সায়মা আফরোজ বলেন, দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারে এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষিসহ সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই আধিপত্যের অবসান ঘটানো দরকার।

জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়পুর গ্রামে লস্কর ও মন্ডল গ্রুপের সংঘর্ষ চলে আসছে। সংঘর্ষে গত পাঁচ বছরে সাত জন নিহত হয়েছেন। প্রতিটি সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। নিয়মিত চলে হামলা ও মামলা। হামলা, ভাঙচুর ও মামলার ভয়ে গ্রামছাড়া থেকে পরিবারগুলো।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে পাহাড়পুর গ্রামের সাজ্জাত হোসেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আরো পড়ুন >>> মৃত্যুর পর কার হেফাজতে শিমুর দুই সন্তান?
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এজন্য শিক্ষকরা আসলেও শিক্ষার্থীরা আসেনি। শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে ডিপিওর সঙ্গে কথা চলছে।
কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।