ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুই যুগ ধরে রাজত্ব করছে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৪, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
দুই যুগ ধরে রাজত্ব করছে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম
রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাত- ছবি সংগৃহীত

এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের গহীন অরণ্যে। টাকার বিনিময়ে খুন, অপহরণের পর ধর্ষণ ও মুক্তিপণ আদায়, লোকজনের ঘরবাড়িতে লুটপাট, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসা, রোহিঙ্গা শিবিরে প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ কিছুই বাদ নেই এই হাকিম ডাকাতের।

পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে আবদুল হাকিমের একাধিক আস্তানা। একেক সময় একেক আস্তানায় আত্মগোপন করে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম।

হাকিম ডাকাতকে ধরতে গত চার বছরে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাহাড়ে ও স্থলে দুই শতাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে হাকিম বাহিনীর ১৩ সদস্য। তারপরও হাকিম ডাকাতকে ধরা যাচ্ছে না।

Advertisement

হাকিম ডাকাতের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর বড়ছড়া গ্রামে। তার বাবার নাম জয়নাল আলী প্রকাশ জানে আলম।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, হাকিম ডাকাতের বিরুদ্ধে এ থানায় মামলা আছে ২২টি। এরমধ্যে হত্যা ৭টি, অপহরণ ৬টি, মাদক ৪টি, ধর্ষণ ১টি, ডাকাতি ৪টি। গত ছয় মাসে পুলিশের সঙ্গে হাকিম বাহিনীর একাধিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে হাকিম বাহিনীর ৮ সদস্য। এরমধ্যে হাকিমের আপন চারভাইও রয়েছে।

হাকিম ডাকাতকে ধরতে মরিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বছর পুলিশ টেকনাফের শীলখালী, রঙ্গিখালী, বাহারছড়া ও মুচনী রোহিঙ্গাশিবিরের পাহাড়ে অন্তত ২৫ বার সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে বাহিনীর লোকজন নিয়ে হাকিম ডাকাত অন্য নিরাপদ আস্তানায় সরে পড়ে।

১৯৮৯ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে আবদুল হাকিম। এসেই যুক্ত হয় ডাকাত দলের সঙ্গে। প্রথমে সাধারণ সদস্য হিসেবে কার্যক্রম চালালেও পরে হয়ে ওঠে দলপতি। ২০১৬ সালে হাকিমের নেতৃত্বে তার বাহিনীর ৩০-৩৫ সদস্য হামলা চালায় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া মুচনী রোহিঙ্গাশিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ব্যারাকে। গুলিতে নিহত হন ব্যারাকের আনসার কমান্ডার মো. আলী হোসেন। এ সময় আনসারের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭০টি গুলি নিয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করে হাকিম ডাকাত। এ ঘটনার পর হাকিমসহ তার বাহিনীর ৩৫ সদস্যের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় খুনসহ অস্ত্র লুটের মামলা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাব বিভিন্ন আস্তানায় হানা দিয়ে লুণ্ঠিত ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১৫টি গুলিসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু হাকিম ডাকাত রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!