গাভি ফিরে পেতে এমন পোস্টারটি এখন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
মোহাদ্দেস হোসেন বীরগঞ্জ উপজেলার বলাকা মোড় এলাকায় আফজালুর রহমানের ছেলে। পেশায় কৃষিকাজ করা মোহাদ্দেস হোসেনের একটি গরুর খামারও ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে দুধ বিক্রি না হওয়ায় ১৫টি গরু তিনি বিক্রি করে দেন তিনি। শুধু ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরুই ছিল তার।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো এই পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘বীরগঞ্জ কলেজপাড়ায় অবস্থিত গাভির খামার থেকে একটি ২ দাঁত বয়সের ফ্রিজিয়ান গাভি ৩১ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে চুরি হয়ে যায়। যদি কোনো ব্যক্তি গাভিটির সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তাকে নগদ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’
.png)
গরু চুরি যাওয়ার পর খামারি মোহাদ্দেস বীরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেছেন। শুধু তাই নয়, এর কয়েকদিন আগেও তার বাড়িতে চুরি হয়েছে। খোয়া গেছে স্বর্ণালংকার ও অর্থ। তখনও থানায় অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। উদ্ধার হয়নি খোয়া যাওয়ার অর্থ ও স্বর্ণালংকার।
মোহাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা গরু পালন করি। নিজের ছেলেমেয়েদের যেমন আদর করে বড় করি তেমনিভাবে গরুগুলোও আমাদের কাছে সন্তানের মতো। করোনাকালে ১৫টি গরু বিক্রি করে দেই। পরে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরু ক্রয় করে লালন-পালন করে আসছি। বর্তমান বাজার হিসেবে গরুটির মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। এক বছর ধরে গরুটি আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। তাই গাভিটি ফেরত পেতে আমি এমন পোস্টার সাঁটিয়েছি।’
মোসাদ্দেক হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এই পোস্টার দেখেছি। ব্যতিক্রমী হওয়ায় এমন পোস্টার বেশ নজর কেড়েছে।’
ফেসবুকে গাভির ছবি শেয়ার করে নাজমুল ইসলাম লিখেছেন, ‘গাভি চুরির বিজ্ঞপ্তি’। গাভির সন্ধানে অসাধারণ বিজ্ঞপ্তি, সন্ধান মিললেই পুরস্কার এক লাখ টাকা। সেখানে কমেন্টসে ময়মুনা আক্তার লিখেছেন ‘বাট গরুটার মধ্যে এমন কী আছে যে, পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা দেব।’
বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, ‘গরু চুরির একটি বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়েছে। এখন কেউ যদি পোস্টার সাঁটায় তাহলে তো আমাদের করার কিছু নেই। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’