ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলায় জনস্রোত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৯, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলায় জনস্রোত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কানপুর ইউনিয়নে বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবতা (মাদব ঠাকুর) এর মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে মেলা বা পূজার কার্যক্রম শুরু হয়। সনাতন ধর্মালম্বীরা তাদের পাপ মোচন উপলক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গা স্নান করে থাকেন।

স্থানীয়রা জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসী (মাদব ঠাকুর) এর মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গা স্নান, পূজা অর্চনা করে আসছেন। এরফলে অনেকেই সফল হয়েছেন। তখন থেকে গঙ্গা স্নান, পূজা অর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ‘ডুবের মেলা’ নামে পরিচিত। নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরী স্নান উৎসবে অংশ নেন। মেলা উপলক্ষে আগের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশমেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশ-বেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাড়ি-পাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেন।  

আরো পড়ুন: দাফনের সাড়ে ৫ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো যুবকের লাশ

মেলায় আসা অজিত পাল বলেন, ছোট সময় থেকে দেখে আসছি এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কয়েক বছর পর মেলায় আসলাম। সকালে স্নান করেছি। এখন মেলায় ঘুরছি। অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। সকালে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্নান করেছে।

যমুনা রানী পাল বলেন, আজ মাঘী পূর্ণিমা। মাঘী পূর্ণিমার মধ্যে ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় এসে গঙ্গা স্নান ও পূজা দিয়েছি। মাঘী পূর্ণিমায় উপাস রয়েছি। কেউ যদি উপাস থাকে তাহলে গঙ্গা স্নান ও পূজা দিয়ে খেতে পারে।

ছোটদের খেলনা বিক্রেতা সুকুমার সাহা বলেন, ছোট থাকতে বাপ-দাদার সঙ্গে ডুবের মেলায় আসতাম। এখন দোকান নিয়ে আসি। সকালে বেঁচাকেনা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা বেড়ে যায়। বেচাকেনা ভালোই হয়।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশমাছ বিক্রেতা অমল মালো বলেন, আমি মেলায় তিন রকমের মাছ বিক্রি করছি। সকালে আসছি ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। মাছ প্রায় শেষের দিকে। ডুবের মেলায় প্রতি বছর মাছ বিক্রি করতে আসি।

মেলায় আসা বিক্রেতা মধু সুধন বনিক বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এতো লোকের সমাগম হয় ঘটে এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো। 

এ বিষয়ে ডুবের মেলা কমিটির সভাপতি জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘী পূর্ণিমার সময় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমি এই মেলায় ৬০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। মেলা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। ভোরে স্নানের মাধ্যমে শুরু হয় মেলার কার্যক্রম। চলে দিনব্যাপী। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দশনার্থীদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!