১৪ দিনেও লক্ষ্মীপুরে স্কুল শিক্ষিকা গীতা রানীর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। জড়িতদের কেউ আটক হয়নি। গীতা রানীর পরিবার বলছে, দিনের বেলায় চুরি করতে এসে হয়েছে হত্যাকাণ্ড। জড়িতদের আটক করেও পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। হতাশ নিহতের স্বজনরা। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়না তদন্তের রির্পোটে নিশ্চিতের পর পুলিশ গীতা রানীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাকে দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার সময় নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ডে পাল বাড়িতে খুন হন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা গীতা রানী। ওইদিন দরজা খোলা রেখেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা গীতারানী পাল।
.png)
এসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হত্যা করে স্বর্ণলাঙ্কার ও নগদ টাকা লুটে নেয়। পরে পাশের কক্ষে থাকা তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্র পাল। বিকেল ৫ টার দিকে স্ত্রীকে ডাকতে গিয়ে খাটে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন। নিহতের ছেলে বিপ্লব বিহারি পাল বাদী হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় এখনো কেউ আটক না হওয়ায় প্রতি মুহূর্তের স্মৃতি মনে করে হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন নিহত স্কুল শিক্ষিকার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মাছিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্রপাল।
স্থানীয়রা জানান, দিনে দুপুরে বাসা বাড়ির দরজার তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ। অনেকেই বলছেন এসব ব্যাপারে পুলিশ নীরব। রাতে পুলিশের টহল নেই বললেই চলে। দিন দিন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের তৎপরতা বেড়েইে চলেছে। অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তারা বলছেন এলাকা জুড়ে রয়েছে অজানা আতঙ্ক। আর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ শিপন বড়ুয়া জানান, ১২ বছর পূর্বে মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় ছিলেন গীতারাণী। ৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামি গ্রেফতার ও হত্যার রহস্য উৎঘাটনে কাজ করছে।