মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. বাহাউদ্দিন কাজী এ রায় প্রদান করেন।
হত্যা মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির উপস্থিতে এ রায় প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ মো. রাসেদুল হক গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সৈয়দাবাদ বরিয়াবহ গ্রামের সামসুল হকের ছেলে।
.png)
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জেলার কালিয়াকৈর ইপজেলার বারিয়াবহ গ্রামের সামসুল হকের মেয়ে রুনা সাফিনাজ মুন্নির বিয়ে হয় নোয়াখালীর ফেনী জেলার শাহ আলম শিমুলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে মুন্নির শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে মুন্নি তার ছোট ভাই রাসেদুলকে জানায়। এতে তার ভেতরে প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়। এরপর রাসেদুল সিদ্ধান্ত নেয় মুন্নির ননদ লিমা সুলতানাকে বিয়ে করে তাকেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করবে। পরবর্তীতে রাসেদুল তার বিয়াইন লিমার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে। এর কিছুদিন পর রাসেদুলের বোন জামাই শিমুল বিদেশে চলে যায়।
কিন্তু বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকদের হাতে মুন্নি আরো বেশি নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। এরই মধ্যে ২০০৬ সালের মুন্নির ননদ লিমা মোবাইল ফোনে জানায় তার বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে রাসেদুলকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না। লিমাকে আনতে ২৩ মার্চ রাসেদুল ফেনীর লালুপল এলাকায় যায় এবং লিমাকে গাজীপুরের কালিয়কৈর নিয়ে আসে। ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা একসঙ্গে থাকে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাসেদুলের বোন মুন্নি ফের মোবাইল ফোনে অত্যাচারের কথা জানায়। এতে রাসেদুলের মনে আবারো প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয় এবং ওই দিন রাত ১২টার দিকে কৌশলে লিমাকে বাইরে নিয়ে গল্পের ফাঁকে কাঁধে হাত দিয়ে তার গলার ওড়না দিয়ে চেপে ধরে।
২-৩ মিনিটের মধ্যে লিমা নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ টেনে ১০-১৫ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে রেখে রাসেদুল বাড়িতে ফিরে যায়। পরের দিন ঐ এলাকায় লাশ পড়ে থাকার ঘটনা জানা জানি হয়। রাসেদুল মেজবোনের বাসা ঢাকার নাখাল পাড়ায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে সেজ ভাই এবং মেজবোনকে হত্যার ঘটনাটি কাগজে লিখে রাত ১০টার দিকে তেজগাঁ থানায় গিয়ে নিজে ধরা দেয়।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, হত্যার ঘটনায় ২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈর থানার এএসআই মো. সাদেকুজ্জামান বাদী হয়ে রাসেদুলকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ঐ বছরের ১৭ জুলাই শুধু রাসেদুলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। এছাড়া আসামি নিজে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নাসির উদ্দিন ফারুক শিপন।