গতকাল শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার দেউলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত রতন সরকার দেউলা মানিকহার গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের মৃত শিবনাথের ছেলে সুশিল ও তার স্ত্রী মাধরী। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই অসিত কুমার সরকার বাদী হয়ে রাণীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
.png)
নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই অসিত কুমার সরকার জানান, তার বড় ভাই রতন সরকার মাছ চাষ করতেন। তার দুটি পুকুর আছে। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে পুকুর দেখতে যান এরপর আনুমানিক রাত ৩টায় পরিবারের লোকজন জানতে পারেন- রতনের রক্তাক্ত দেহ সুশিল চন্দ্রের বাড়ির কাছে পড়ে আছে। তারপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেফতার সুশিলের মা জোসনা জানান, তার ছেলের স্ত্রী মাধরী এবং নিহত রতন সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর যাবত পরকীয়া আছে। এ ঘটনা নিয়ে চার বছর পূর্বে দুইবার গ্রামবাসীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এরপর রতনকে সুশিলের বাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারপরও সে সব বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো শনিবার গভীর রাতে তার বাড়িতে এসে জানালা দিয়ে ডাকলে তার ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ জানান, পরকীয়ার জের ধরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুশিল চন্দ্র ও তার স্ত্রী মাধরীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।