বুধবার খুলনা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের রাষ্টপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ লিটন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লবনচরা বোখারীপড়া এলাকার মীর মোহাম্মাত আলীর ছেলে মো. বাবু হোসেন ওরফে বাবু, দক্ষিণ লবনচরা মদিনাবাদ এলাকার নারি মোল্লার ভাড়াটিয়া মো. জাহিদুল ইসলাম নয়ন, মাথাভাঙ্গা মোহম্মাদীয়া জামে মসজিদ রোড ফুল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া বাবুল হাওলাদারের ছেলে মো. ফয়সাল হাওলাদার ও দারোগার লিজ এলাকার ডা. মরিয়মের বাড়ির পাশে মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আবু রায়হান। রায় ঘোষণর সময় আসামি রায়হান বাদে বাকি সব পলাতক ছিলেন।
.png)
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান রাব্বি নগরীর গল্লামারী পুলিশ বক্সের পাশে ওমেদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আ. রহিম ব্যাপারীর বড় ছেলে। তিনি একজন ফল বিক্রেতা। রাব্বি তার বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। মাঝেমধ্যে ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হলে রাব্বিকে বাবা রাগারাগি করেন। এ সময়ে উত্তরে তিনি জানান আজকের পর থেকে আর কোনোদিন অটোরিকশা চালাবেন না।
দুপুর ৩টার দিকে দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়িতে অবস্থান নেন রাব্বি। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে সাচিবুনিয়া কৈয়া বাজারের দিকে যাত্রীসহ রওনা হন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়। তাকে কোথাও না পেয়ে খোঁজ নিতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ মেলে পরেরদিন সকালে কিন্তু জীবিত নয় মৃত অবস্থায়। পরেরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাব্বির বাবা স্থানীয়দের মুখে জানতে পারেন- লবনচরা থানাধীন খোলাবাড়িয়া মৌজায় এসএসআর স্কুল কুয়েত মসজিদের পাশ এক যুবকের মরদেহ পড়ে আছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে আ. রহিম ব্যাপারী তার সন্তানের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি বেশ আলোচিত হলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। সোর্সের মারফতে ১৩ আগস্ট পুলিশ ছোটবান্দা খান বাহাদুর সগকে হাওলাদার রাইচ মিলের ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে মোধ সোহেল, মো. বাবু হেসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম নয়ন, মো. ফয়সাল ও মো. আবু রয়হানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেরা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত আছে বলে স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা রাব্বির গাড়ি ভাড়া করেন। নির্জন স্থানে নিয়ে ছিনতাইয়ে জন্য গাড়ি থেকে নামানো হয় রাব্বিকে। বাধা দিলে মো. ফয়সাল হাওলাদার তার পরিহিত প্যান্টের বেল্ট খুলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রাব্বিকে।
২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি লবনচরা থানার এসআই নাসির উদ্দিন মোল্লা পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।