১৩ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন ছেলেরা, সঙ্গে পেলেন মায়ের লাশও
অবশেষে সড়ক অবরোধের পর খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত মায়ের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেইসঙ্গে থানায় আটক দুই ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মায়ের লাশ আটকে রেখে দুই ছেলেকে পুলিশে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী পিয়ারুন্নেছা শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ছেলে মো. মোস্তাকিমের। এ ঘটনায় পিয়ারুন্নেছার অপর দুই ছেলেকে আটকে রেখে পুলিশে দেন চিকিৎসকরা।
.png)
ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর রোববার বিকেল ৪টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত পিয়ারুন্নেছার লাশ হস্তান্তর করেছে এবং সোনাডাঙ্গা থানায় আটক তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী আলফাত হোসেন লিটন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মায়ের লাশ ও আটক ছেলেদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মহানগরীর নতুন রাস্তার মোড়ে খুলনা-ঢাকা মহাসড়ক এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আধা ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রেখেছিলাম। সড়ক অবরোধের সময় আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও লাশ ছেড়ে না দিলে দুর্বার আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ আমাদের ডেকে আটককৃতদের ছেড়ে দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করে।
মুক্তি পাওয়ার পর মো. তরিকুল ইসলাম কাবির বলেন, রাতে মা ছটফট করতে থাকেন। আমার ভাই বারবার যাওয়ার পরও ইন্টার্ন ডাক্তার আসেননি। মাকে সঙ্গে নিয়ে তার রুমে আসতে বলেন। হাসপাতালে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনরা অনেক অনুরোধ করার পর ডাক্তার মাকে দেখতে আসেন কিন্তু মা ততক্ষণে মারা যান।
এরপর আমার ছোটভাই উত্তেজিত হয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জাড়ান। পরে এসে ছোট ভাইয়ের পক্ষ থেকে আমি ও আমার আরেক ভাই মাফ চাই। কিন্তু তারা আমার অসুস্থ ভাইটিকেও মারধর করেন। এমনকি আমার বৃদ্ধ বাবাকেও ইন্টার্ন টিকিৎসকরা মারধর করেন। পরে অন্যায়ভাবে আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়। যারা আমার মায়ের ও আমাদের ছাড়ানোর জন্য কষ্ট করে আন্দোলন করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।