ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাবার কোলে শিশুকে গুলি করে হত্যা, ৪ আসামি রিমান্ডে

নোয়াখালী প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২১ এপ্রিল ২০২২
বাবার কোলে শিশুকে গুলি করে হত্যা, ৪ আসামি রিমান্ডে
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নোয়াখালী: ফাইল ফটো

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুর ইউনিয়নে তিন বছরের শিশু তাসপিয়া আক্তার জান্নাতকে গুলি করে হত্যা মামলায় চার আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- সুজন, ,সোহেল উদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। 

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম চার আসামির রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.সবজেল হোসেন আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ আসামির সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। এরপর আদালত চার আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

Advertisement

গত মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১১ একটি দল তাসপিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে আটক করে। 

অপরদিকে,নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুরে শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাত হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত বুধবার বিকাল ৪টার দিকে তাসফিয়াকে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মালেকার বাপের দোকান এলাকার বন্ধু যান প্রবাসী আবু জাহের। ওই দোকানে গিয়ে তাসফিয়ার জন্য চকলেট, জুস ও চিপস নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় মহিন, রিমন, আকবর, নাঈমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী মামুনের দোকানে এসে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ওপর হামলা চালায়।

একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে তারা দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইট নিক্ষেপ করলে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাসফিয়া। পরে তারা বাড়ি যাওয়ার সময় পেছন থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে তাসফিয়া ও জাহের গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে গুলিবিদ্ধ তাসফিয়া ও আবু জাহেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় পৌঁছালে মারা যায় তাসফিয়া।  মাটি কাটার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না আবু জাহের বা তার মেয়ে তাসফিয়া।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বাদশা ও রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত নয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!