হঠাৎ কোল থেকে লাফিয়ে মগডালে বিড়াল, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
গাইবান্ধায় গাছের মগডালে আটকে পড়া একটি বিড়াল উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে একঘণ্টার চেষ্টায় বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারে সহযোগিতা করে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা পৌর শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী অর্পিতা খাতুন তার পোষা বিড়ালটিকে ‘এন্টি রেবিস' টিকা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে আসেন। টিকা দেওয়ার পর সেখান থেকে থেকে ফিরছিলেন। এসময় হঠাৎ ভয় পেয়ে বিড়ালটি লাফিয়ে কোল থেকে নেমে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের একটি বড় গাছে উঠে পড়ে এবং মগডালে গিয়ে আটকা পড়ে। অনেক উঁচুতে হওয়ায় তাকে নামানো যাচ্ছিল না। এতে অর্পিতা খাতুন কান্না শুরু করে। বিষয়টি নজরে এলে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুদুর রহমান ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
পরে গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের ইনর্চাজ নাসিম রেজা নিলুর নেতৃত্বে ফায়ার ফাইটাররা প্রায় একঘণ্টার চেষ্টায় বিড়ালটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
এদিকে পোষা বিড়ালটি হাতে পেয়ে আনন্দে আবারও কান্না করেন অর্পিতা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় লোকজন।
.png)
অর্পিতা খাতুন জানান, বিড়ালটি তার সঙ্গে একসঙ্গে খায়, ঘুমায় ও খেলা করে। বিড়ালটি তার অতি আদরের। টিকা দেওয়ার পর হঠাৎ বিড়ালটি কিছু একটা দেখে ভয়ে তার কোল থেকে লাফিয়ে গিয়ে গাছে ওঠে। ধীরে ধীরে মগডালে পৌঁছে যায়। তার পোষা বিড়ান নয়, তিনি নিজেই যেন গাছের মগডালে উঠেছেন। যেকোন সময় পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত। এটা ভেবেই তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিড়ালটি উদ্ধার করে।
গাইবান্ধা সদর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ নাসিম রেজা নিলু বলেন, মানুষ কিংবা অন্য প্রাণী যেটাই হোক, প্রতিটি জীবনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করে থাকি। বিড়ালটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এটাই আনন্দের বিষয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, বিড়ালটি উদ্ধার করতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগছে। প্রাণীর সেবাই আমাদের কাজ। আটকে পড়া বিড়ালটিকে আমরা সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি।