ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঈদ আনন্দ নেই জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুলের পরিবারে

মদন  (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৪ মে ২০২২
ঈদ আনন্দ নেই জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুলের পরিবারে
ফ্রেমবন্দি ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন মা-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলা ঘটনার ছয় বছর পর আবারো ফিরে এলো ঈদুল ফিতর। স্বপ্ন আঁকড়ে বেঁচে আছে জঙ্গি হামলায় নিহত আনসারুলের পরিবার। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চান নিহত আনসারুলের মা রাবেয়া খাতুন। ঈদের চাঁদ উঠলেই আমার কলিজার টুকরা আনসারুলকে হারানোর কষ্ট আঁকড়ে ধরে বলে জানান তিনি। তবে ঐ হামলার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হলেও তেমন অগ্রগতি নেই মামলা পরিচালনা কার্যক্রমে। 

নিহত আনসারুল হক নেত্রকোনার মদন উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত এর বিচারকার্য শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিশিষ্টজনরা।

Advertisement

নিহতের পরিবার ও ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পুলিশের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা নির্মমভাবে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পুলিশ কনস্টেবল আনসারুলকে। এই ঘটনায় তার পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেছে।

ঐ দিন পুলিশের তল্লাশির সময় জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে। এ ছাড়া তাদের চাপাতির কোপে দুই পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম মারা যান। এ সময় আরো ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে জঙ্গি আবির রহমান মারা যান। উভয় পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিক।

এ ঘটনায় আটক করা হয় জঙ্গি শফিউল ও স্থানীয় তরুণ জাহিদুল ইসলাম ওরফে তানিমকে। পরে একই বছরের ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধে শফিউল নিহত হন।

হামলার তিন দিন পর ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আর ২৮ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ বিচারাধীন। মামলার তদন্ত করে শেষ পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকালে ১৯ জন মারা যায়।

নিহত আনসারুল হকের ভাই আমিনুল হক বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার  কি হয়েছে কিনা তা আমরা জানি না। আমরা চাই এ ঘটনায় জড়িতদেরকে আদালত ফাঁসি দিক।

আনসারুলের মা রাবেয়া খাতুন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমি জীবিত থাকতে ছেলে হত্যাকারী জঙ্গিদের শাস্তি দেখে যেতে পারবো কি? তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেছে। ঈদের চাঁদ উঠলেই আমার কলিজার টুকরা আনসারুলকে হারানোর কষ্ট আঁকড়ে ধরে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম জানান, আনসারুলের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। নিহত আনসারুলের এক ভাইকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তবে আইনের বিষয়টি কিশোরগঞ্জ পুলিশ বলতে পারবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: নেত্রকোণা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!