গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের নূরানী মাদরাসা সংলগ্ন কালামিয়ার টেক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ হামলায় নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন সোহেল ও তার ভাগ্নে নজরুল ইসলাম আহত হয়েছেন। তাদের নোয়াখালী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
.png)
গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হলো- নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের অন্তর ও বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের টিপু, আব্দুল গনি পারভেজ, ইমরান হোসেন ওরফে শান্ত।
চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল জানান, গতকাল দুপুরে গোপালপুর গ্রামে ২ কিশোরীকে ইভটিজিং করে একই গ্রামের হারিস মোল্লা বাড়ির বাশারের ছেলে রবি ও তার দল। সে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীদের উক্ত্যক্ত করে আসছে। ওই কিশোরীদের পরিবার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আমাকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবি ও তার কিশোর গ্যাংয়ের বহিরাগত সদস্যরা ওই কিশোরীদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিতে বলি এবং ঘটনাস্থলে ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ও গ্রাম পুলিশ পাঠাই। এতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীদের বাড়িতে আবারও হামলা করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত করি এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিসহ ২ জনকে আমার গাড়িতে নিয়ে ইউপি কার্যালয়ের দিকে রওনা দেই। একপর্যায়ে আসস্মিক রবির কিশোর গ্যাংয়ের ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য হকিস্টিক ও রড দিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় চেয়ারম্যান বাম চোখে ও কপালে গুরুতর আঘাত পান এবং তার ভাগনে নজরুলের মাথা ফেটে যায়। হামলাকারীরা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে তাদের ৪ জনকে আটক করে স্থানীয়রা।
ঘটনা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ওসি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক ৪ জন থানায় আছে। হামলার শিকার পরিবারটি ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই ৪ জনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।