মঙ্গলবার দুপুরে ভাইয়ের ছবি নিয়ে ডিপোর গেটে হাজির হন মনিরের ভাই আবদুল করিম। এ সময় ভাইয়ের খোঁজে এদিক-সেদিক ছুটতে দেখা যায় তাকে।
আবদুল করিম বলেন, শুনলাম নিখোঁজদের তালিকা করা হচ্ছে ডিপোতে। তাই ছবি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু নাম নিচ্ছে না।
.png)
তিনি বলেন, সাত মাস আগে বিয়ে করেছে মনির। স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন রাত ৮টায় কাজে যোগ দেয় সে। সেখান থেকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফোন করে ওষুধপত্র খেয়েছে কি না জানতে চায়। তারপর বলে এখানে আগুন লেগেছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাইনি। এখন তার অনাগত সন্তানটির কী হবে জানি না।
শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া যায়।
বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ডিপো থেকে আরো দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৪৩। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া দুটি লাশের মধ্যে একটির পাশে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের বুট ও পিপিইর আলামত মিলেছে। অন্যটির পাশে সিকিউরিটির পোশাকের পোড়া অংশ পাওয়া গেছে। তাই লাশগুলোর একটি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যের ও অন্যটি ডিপোর সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কারো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএনএ টেস্ট শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।