এ প্রেমিক যুগলের বাড়ি চৌগাছার জগদীশপুরে। দুজনই জগদীশপুর-মির্জাপুর ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার সকালে স্কুলের পেছনে গিয়ে একসঙ্গে বিষপান করে তারা।
পুলিশ ও মিম-টগরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবার প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় টগর ও মিম। বুধবার সকালে পরীক্ষা চলাকালীন তারা স্কুলের মূল ভবনের পেছনে যায়। সেখানে প্রথমে বিষপান করে মিম, পরে তার হাত থেকে নিয়ে বিষপান করে টগর। এরপর দুজনই পরীক্ষার হলে যায়। আধ ঘণ্টা পর মিম অসুস্থ হয়ে পড়ে।
.png)
সে সময় শিক্ষকরা জানতে চাইলে সে বিষপানের কথা স্বীকার করে, কিন্তু টগর অস্বীকার করে। এরপর শিক্ষকরা মিমকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নিলে সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মিমের মা সাংবাদিকদের জানান, প্রেমিক টগর তার মেয়েকে বিষ খাইয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে যশোরে মিমের অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বুধবার পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে টগর। তখন পরিবার তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টগরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। অবস্থার অবনতি হলেও টগরকেও বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর শুক্রবার তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় সে নিজ বাড়িতে রয়েছে।
টগর-মিমের শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, একই গ্রামে বসবাস ও একসঙ্গে পড়াশোনার সুবাদে টগর ও মিমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিমের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে শাসন করেন। টগরের পরিবারও এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এ কারণেই তারা একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ জানান, টগরের বিষপান না করার সংবাদ মিথ্যা। মিমের মা টগরকে প্রতারক প্রমাণিত করতে এ তথ্য দিয়েছেন। দুজন একসঙ্গেই বিষপান করে। বর্তমানে টগর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।