বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, সোমবার রাতে নগরীর বন্দর থানার কলসি দীঘির পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মঞ্জুরুল কাজী নরসিংদীর সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলফাজ উদ্দিন কাজীর ছেলে। তিনি বর্তমানে কলসি দীঘির পাড় এলাকায় থাকেন।
.png)
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী একজন গার্মেন্টস কর্মী। প্রায় ১৬ বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ায় তিন বোনকে নিয়ে মা আবার বিয়ে করেন। সেই সংসারে ১১ বছরের একটি বোন রয়েছে। ভুক্তভোগীকে নানা সময় কু-প্রস্তাব দিতেন সৎ বাবা। মা বিষয়টি বুঝতে পারলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু সৎ বাবা ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছে তার চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কু-রুচিপূর্ণ কথা বললে একপর্যায়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পুনরায় মায়ের সংসারে আসার পর গত ২৮ এপ্রিল ভুক্তভোগীর রাতের খাবারের সঙ্গে কৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন সৎ বাবা। সেই খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লে সৎ বাবা ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানের ছবি মোবাইলে ধারণ করেন। এরপর ১ মে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং এতে রাজি না হলে গোপন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
পরের দিন ২ মে রাতে ভুক্তভোগী ঘুমিয়ে পড়লে সৎ বাবা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ২৩ মে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, ১২ জুন রাতে ভুক্তভোগীর মোবাইলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবিগুলো পাঠান সৎ বাবা। একই সঙ্গে হুমকি দেন যে- তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলাটি তুলে না নিলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে। এ অবস্থায় র্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপরই কলসী দীঘির পাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল কাজীকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার আরো বলেন, কৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি মোবাইলে ধারণ, ব্ল্যাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা ও রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ এবং মামলা তুলে না নিলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি- গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব অভিযোগ স্বীকার করেন মঞ্জুরুল। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।