ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ফেরিতে উঠার ঝক্কি বাদ দিলেও এই পথ ব্যবহার করে লঞ্চ, ফেরি, ট্রলার ও স্পিড বোটে যাতায়াত করা মানুষ এখন পদ্মাসেতু উদ্বোধনকে ঘিরে আনন্দ জোয়ারে ভাসছেন। আগে যেখানে ঢাকা যেতে ৫-৭ ঘন্টা সময় লাগত সেতু হওয়ার বদৌলতে এখন মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবে ঢাকায়। আগে বর্ষায় ছোট নৌযানকে পদ্মা যে ভয়ংকর রূপ দেখাত এ পথের যাত্রীদের তা এখন সুদূর পরাহত। ২৫ জুন থেকে তা কেবলই ইতিহাস হয়ে থাকবে।
শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময় মুমূর্ষু অবস্থায় ২০২১ সালের মে মাসে আমার এক আত্মীয়কে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। মাদারীপুর বাংলাবাজার ফেরিঘাট পৌঁছলে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ঘাটে তিন ঘণ্টা বিলম্ব করতে হয়েছে। পরে ফেরি আসলেও ততক্ষণে রোগী মৃত্যুবরণ করেন। তখন সেতুটি থাকলে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।
.png)
পরিবহন মালিক সাইম মোল্লা বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে স্থানভেদে শরীয়তপুরের দূরত্ব ৭৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে পদ্মা নদী থাকায় ফেরি, লঞ্চ, স্পিড বোট বা ট্রলারে পার হয়ে ঢাকায় যেতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগতো। পোহাতে হতো দুর্ভোগ, থাকতো জীবনের ঝুঁকি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় নদী পারাপার হওয়া সম্ভব হতো না। এখন পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে পরিবহনে ঢাকায় যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ কমবে বহুগুণ।
শরীয়তপুর পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, এই জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঢাকাতে যাতায়াত করেন। তাদের ফেরি, লঞ্চ, স্পিড বোটে পদ্মা নদী পারি দিতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় নদী পারাপারও সম্ভব হয় না। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় চরম দুর্ভোগে ছিল শরীয়তপুরবাসী। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পদ্মাসেতুর হাত ধরে শরীয়তপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে স্বপ্নীল পরিবর্তন।
সব কিছু মিলে পদ্মা শুধু একটি সেতু নয়, তার চেয়েও যেন বেশি কিছু। কারণ এই সেতু গোটা দেশের সঙ্গে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ বঙ্গকে এক সুতায় গেঁথে দিয়েছে।