পরকীয়ার জেরে মামিকে হত্যা : ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার্জশিট জমা
কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে মামিকে গলা কেটে হত্যা মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। সোমবার কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপস) মো. তরিকুল ইসলাম।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০০৫ সালে কিশোরগঞ্জের শহরের হারুয়া এলাকার তাইজুলের সঙ্গে বিয়ে হয় রেকসোনার। বিয়ের পর থেকে তাইজুলের ভাগ্নে মামুনের সঙ্গে মামির অবৈধ সম্পর্ক গঠে ওঠে। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ দেখা দেয়। দাম্পত্য জীবনের ১৭ বছরে তাদের ঘরে জন্ম নেয় দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
.png)
তাদের এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেয়ে মামুনকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। মামুনের ঘরেও জন্ম নেয় এক সন্তান। এর পরেও চলতে থাকে মামুন ও মামির অবৈধ সম্পর্ক। ফলে মামুনের স্ত্রী চলে যায় তাকে ছেড়ে। একপর্যায়ে মামুন ও মামির সম্পর্কেও অবনতি ঘটে। মামুন এ অবৈধ সম্পর্ক শেষ করতে চাইলেও মামির কারণে তা শেষ করতে পারেননি। পরে মামুন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন ২৩ জুলাই দুপুরে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মামি। এ সময় মামুন ঘরে ঢুকে মামির সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মামিকে প্রথমে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আঘাত করে। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে মামিকে গলা কেটে হত্যা করেন।
২৪ জুলাই মামুনকে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল আমিনের আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে মামুন বলেন, অবৈধ সম্পর্ক শেষ করতে চেয়েও পারিনি। এছাড়াও মামার সঙ্গে মামি অনেক খারাপ ব্যবহার করতো। আমি অনেক পাপ করেছি, মামিকে হত্যা করে সেই পাপ শেষ করে ফেললাম। দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, ঘটনার দিন রাতেই একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বামী তাইজুল। মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামুনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি।