ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: ইউপি সদস্যের তিন ছেলে গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৬, ২৮ আগস্ট ২০২২
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: ইউপি সদস্যের তিন ছেলে গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃতরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে মারধরের ঘটনায় মামলার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইউপি সদস্যের ৩ ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

শনিবার বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব-১১ এর সদস্যরা। গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোমেনা বেগমের ছেলে রোমান (৩৫), রানা (৩২) ও রুবেল (৪০)।

জানা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই তরুণীর মা-বাবা ও বড় ভাইয়েরা প্রায় সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। বাড়িতে ছোট তিন ভাইকে নিয়ে থাকতেন তিনি। গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে প্রায় রাতে বাড়িতে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন ইউপি সদস্যের ছেলে রোমান। এ ঘটনার এক মাস পর মা বাড়িতে আসলে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী।

Advertisement

পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিযুক্ত রোমানের পরিবারকে জানান ওই ভুক্তভোগীর মা। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের কয়েক দফায় মারধর করে রোমান ও তার পরিবারের লোকজন। এদিকে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর রোমানকে বিয়ের জন্য বলা হয়। কিন্তু বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভুক্তভোগী ও পরিবারের লোকদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং থানায় কোনো অভিযোগ দিলে হত্যার হুমকি দেয়।

গত বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের পুকুরঘাটে কাজ করছিলেন ওই তরুণী। এ সময় রোমান ও তার ভাই রুবেল এসে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করে ফেলে যান। পরে বাড়ির লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওই রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা এলাকায় মারামারি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। আসামি রোমান, রুবেল ও রানার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আসামি রুবেল বেগমগঞ্জ থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমজাদ হোসেন ওরফে পেট কাটা সুমন ওরফে খালাসি সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি, মারামারি ও হত্যার মামলা আদালতে বিচারাধীন।  

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!