ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বললেন ‘আমাকে মেরে ফেলল, তোরা এসে বাঁচা’

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বললেন ‘আমাকে মেরে ফেলল, তোরা এসে বাঁচা’
মনিকা বেগম

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মনিকা বেগম নামে ২৬ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

শনিবার রাতে উপজেলার বাট্টাইধোবা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে মনিকার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মনিকা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামের খোকন শেখের মেয়ে। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, ভালোবেসে ২০১৮ সালে মনিকাকে বিয়ে করেন বাট্টাইধোবা গ্রামের হাসিব। তাদের আড়াই বছরের এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। ঘটনার তিনদিন আগেও বিদেশ যাওয়ার টাকা জোগাড়ের জন্য মনিকাকে চাপ দেন হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু দরিদ্র বাবার কাছ থেকে আর টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে জানান মনিকা।

Advertisement

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার রাতে মনিকাকে মারধর করেন হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন। পরে মনিকাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা। মারধরের একপর্যায়ে গলা চেপে ধরলে মনিকা মারা যান বলে ধারণা স্থানীয়দের।

মনিকার ভাগনে মো. শামীম হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দেন খালা। কল ধরতেই মনিকা বলেন ‘আমাকে মেরে ফেলল, তোরা এসে আমাকে বাঁচা।’

এরপর কয়েক বন্ধুকে নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খালার বাড়ি যান শামীম। ওই সময় বাড়ি ফাঁকা দেখেন তিনি। পরে মেঝেতে মনিকার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তার খালার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপর ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে সাড়ে ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মনিকার বাবা খোকন শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই লোকজন টাকার জন্য মেয়েকে নির্যাতন করতেন হাসিব ও তার পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে আমি কয়েকবার সালিশ ডেকেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শেষমেশ মেয়েকে তারা মেরেই ফেলেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!