সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, অস্ত্রের ঝনঝনানি ও মাদকের আগ্রাসন রোহিঙ্গা শিবিরের পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩০টি সন্ত্রাসী গ্রুপের অবাধ বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে আছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।
ক্যাম্পে অধিক পরিচিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে রয়েছে- মাস্টার মুন্না গ্রুপ, আলোচিত নবী হোসেন গ্রুপ, ইউসুফ গ্রুপ, রকি বাহিনী, শুককুর বাহিনী, আব্দুল হাকিম বাহিনী, সাদ্দাম গ্রুপ, জাকির বাহিনী, পুতিয়া গ্রুপ, সালমান শাহ গ্রুপ, গিয়াস বাহিনী। আরো আছে- আনাস গ্রুপ, জাবু গ্রুপ, আবু শমা গ্রুপ, লেড়াইয়া গ্রুপ, খালেদ গ্রুপ, শাহ আজম গ্রুপ, ইব্রাহিম গ্রুপ, সালামত উল্লাহ গ্রুপ, কামাল গ্রুপ, হামিদ গ্রুপ, খলিল গ্রুপ। জানা গেছে, প্রতিটি গ্রুপে ৩০ থেকে ১০০ জন সদস্য রয়েছেন।
.png)
তাদের মধ্যে সালামত উল্লাহ গ্রুপের প্রধান সালামত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে থাকেন। তিনি সব গ্রুপের সমন্বয়ক এবং অর্থ ও অস্ত্রের যোগানদাতা। বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মানবিক সহায়তার নামে তহবিল সংগ্রহ করে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের সরবরাহ করেন। সালামতের এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জানান, এরই মধ্যে তিনি ভোটার হয়েছেন। ব্যবহার করছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট। বছরে দুই থেকে তিনবার সৌদি আরব,পাকিস্তান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন।
সালামত ২০১৩ সালে পাকিস্তানি নাগরিক ও তার এক সহযোগীসহ চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩টি মাদরাসার নাম ব্যবহার করে তিনি প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে আসেন। এসব মাদরাসার অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী রোহিঙ্গা।
জানা যায়, নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্না গ্রুপসহ ক্যাম্প ভিত্তিক বেশিরভাগ সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের যোগাযোগ রয়েছে। ক্যাম্প অশান্ত করার জন্য সন্ত্রাসী গ্রুপকে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা বিনামূল্যে দিচ্ছে মিয়ানমার। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসাবে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে চায় মিয়ানমার।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ ধরনের অপরাধে দুই হাজার ৪৪০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা আট হাজার ২৪৫ জন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এবং বাইরে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে নির্মূল করার জন্য কাজ করছে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে চলমান অভিযান আরো জোরালো করা হবে।