ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নাড়ি কাটার আগেই চিকিৎসকের কাঁচি ধরে ফেলল ‘নেইমার’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ৬ ডিসেম্বর ২০২২
নাড়ি কাটার আগেই চিকিৎসকের কাঁচি ধরে ফেলল ‘নেইমার’
নবজাতকের নাম রাখা হলো নেইমার

রাত ১টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা-ব্রাজিলের খেলা দেখছিলেন ডা. লেলিন খান। সঙ্গে ছিলেন অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ পার্থ সমদ্দারও। হাসপাতালে বসেই খেলা দেখছিলেন এ দুই চিকিৎসক। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪ গোল দেওয়ার পর হঠাৎ খবর আসে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন ফাতেমা বেগম।

খেলা দেখা শেষ না করেই তাৎক্ষনিক রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। করা হয় সিজার। মায়ের পেট থেকে বের করেই নবজাতকটির নাম নেইমার রাখেন চিকিৎসক লেলিন। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারে শিশুটিকে কোলে নেয়া কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। মুহূর্তেই এসব ছবি ভাইরাল হয়।

সোমবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফুটফুটে ছেলেসন্তান জন্ম দেন ফাতেমা। বর্তমানে মা-ছেলে একই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। ফাতেমা কলাপাড়া পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নজিবুল্লাহর স্ত্রী।

Advertisement

নবজাতক নেইমারের ছোট চাচি অন্তরা বেগম বলেন, রাত ২টার দিকে ফাতেমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। এর পরপরই ফাতেমাকে ক্লিনিকে নেয়া হয়। তাৎক্ষনিক ফাতেমার সিজার করেন চিকিৎসক লেলিন। একই সঙ্গে শিশুটির নাম রাখেন নেইমার।

ক্লিনিকের সেবিকা আলো বেগম বলেন, ব্রাজিল ৪ গোল দেওয়ার পর আমরা অনেকটা উচ্ছ্বসিত ছিলাম। রোগীকে ক্লিনিকে আনা হলে আমরা খেলা দেখা বাদ দিয়ে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই। নবজাতকটিকে মায়ের পেট থেকে বের করা হলে চিকিৎসক নাম রাখেন নেইমার।

কলাপাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. লেলিন বলেন, ক্লিনিকের সবাই একসঙ্গে বসে ব্রাজিলের জার্সি পরে খেলা উপভোগ করছিলাম। ৪ গোল হওয়ায় খেলাটি বেশ জমে উঠছিল। এ সময় ওই রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে খেলার বিরতিতে তাৎক্ষণিক তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার করি।

তিনি বলেন, ‘মজার বিষয় হচ্ছে নবজাতকটিকে যখন হাতে নেই তখন মায়ের নাড়ি কাটার আগেই আমার হাতে থাকা কাঁচি ধরে ফেলে। সে কাঁচি অনেকক্ষণ ধরে রাখে। এতে আমার সঙ্গে থাকা সবাই আরো বেশি উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। একদিকে ব্রাজিলের জয়ের আনন্দ এবং অন্যদিকে নবজাতকের জন্ম দুই আনন্দে ওর নাম নেইমার রাখি।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!