স্থানীয় ও ভুক্তভোগী দোকানদার জানান, প্রতিদিনের বেঁচাকেনা শেষে রাতে দোকান বন্ধ করে কেউ বাড়িতে ও কিছু কর্মচারী দোকানে রাত্রিযাপন করছিলেন। গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারে হানা দেয় ২০-৩০ জনের ডাকাতদল। এ সময় দোকানগুলোর তালা ভেঙে ও কয়েকটি দোকানে থাকা মানুষনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। এক সারিতে থাকা ৯টি স্বর্ণের দোকানসহ ১১টি দোকান থেকে মোট অর্ধশতভড়ি স্বর্ণালংকার, রূপাসহ সমস্ত টাকা লুটে নিয়ে। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকার ও মসজিদের মাইকে ডাকাতের কথা বলা হলে বাজারের পাশের নৌপথে ট্রলার যোগে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
স্থানীয়রা জানায়, বাজারের বৃষ্টি স্বর্ণালয়, উৎসব গোহনালয়, শ্রী দুর্গা গহনালয়, মা সুভাগ্য স্বর্ণ শিল্পালয়, বাবা লোকনাথ স্বর্ণ শিল্পালয়, মিতু স্বর্ণ শিল্পালয়, প্রিয়াঙ্কা গহনালয়, সিঁথি গহনালয়, বিশ্বাস স্বর্ণ শিল্পালয়সহ মেসার্স কালাম স্টোর, বিসমিল্লাহ ফার্মেসিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
.png)
উৎসব গহনালয়ের স্বত্বাধিকারী বাসুদেব দাস জানান, রাত ১১টার দিকে বাসায় আসি। পরে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত আসছে বলে মাইকিং করা হলে দৌড়ে দোকানে যাই। গিয়ে দেখি দোকানের সিন্দুক ভেঙে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭০ ভরি রূপাসহ টাকা পয়সা সবকিছু নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
শ্রী দুর্গা গহনালয়ের স্বত্তাধিকারী তারেক নাথ দে জানান, আমার দুই কর্মচারী দোকানে ছিল, আমি বাসায় চলে এসেছিলাম। গভীর রাতে ডাকাতদল এসে আমার কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে নদীর পা নিয়ে যায়। দোকানের দুটি সিন্ধুকের মধ্যে একটা ভেঙে আড়াই ভরি স্বর্ণ ও টাকা পয়সা নিয়েছে। আরেকটা ভাঙতে পারেনি। বাজারে আমাদের স্বর্ণপট্টিতে ৩০টার বেশি দোকান আছে। ১০টা স্বর্ণের দোকান ও একটা ফার্মেসিতে ডাকাতি হয়েছে। মসজিদের মাইকে ডাকাতের কথা বলার পর এসে দেখি এই অবস্থা।
টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি রাজিব খান জানা, ধারণা করা হচ্ছে, বাজারের পার্শ্ববর্তী খাল দিয়ে ট্রলারযোগে এসেছিলো ডাকাত চক্রের সদস্যরা। ২০-২৫ ডাকাত এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও মালমাল উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।