অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বিক্রি করে বিদেশে যান স্বামী
বিয়ের পর স্ত্রীকে পতিতালয়ে বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমান স্বামী। সম্প্রতি দেশে ফিরলেও স্ত্রীকে অস্বীকার করেন। তবে স্বামীর অধিকার পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযুক্তের নাম জাহিদ খান। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের জালাল খানের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৪ বছর আগে জাহিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর বিদেশে যাওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক চান জাহিদ। টাকা না পেয়ে নির্যাতন শুরু করেন স্বামী-শাশুড়ি ও দেবর। এমনকি স্ত্রীর গোপনাঙ্গে আঘাত করতেন স্বামী। তবে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। একদিন চিকিৎসার কথা বলে কিছু ওষুধ খাইয়ে কথিত বোন লাভলীর বাসায় নিয়ে যান স্বামী।

পরদিন জানতে পারেন পটুয়াখালী পতিতালয়ের দালালের কাছে বিক্রি হয়েছেন তিনি। স্ত্রীকে বেচে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিদেশ যান স্বামী। ওষুধ খাওয়ার ২০ দিন পর সেই বোনের বাসায় মৃত সন্তান প্রসব করেন ভুক্তভোগী। দীর্ঘ ১০ বছর পতিতালয় থেকে মুক্তি মেলে তার। এখন নিজে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছেন।
সম্প্রতি জানতে পারেন তার স্বামী দেশে ফিরেছেন। এমন খবরে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর স্বামীর বাড়ি যান তিনি। এ সময় পথে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্বামীকে দেখেন। পরে একটি দোকানে নিয়ে বসিয়ে তাকে গালমন্দ করেন স্বামী।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, স্ত্রী বলে দাবি করলে আমার ওপর চড়াও হন জাহিদ। একপর্যায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেদুরিয়ার ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন সুজন ও স্থানীয় ডাক্তার লিটনের সহযোগিতায় পরিষদের এক রুমে আটকে আমাকে মারধর করেন। এছাড়া আমার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান তারা। পরে আমাকে উদ্ধার করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা পুলিশের সদস্যরা।