ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শীতে কদর বেড়েছে চিতই-ভাপা পিঠার 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৩
শীতে কদর বেড়েছে চিতই-ভাপা পিঠার 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যমুনা নদী পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাঁপানো শীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ৯টি উপজেলারসহ চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া নিম্ন-আয়ের মানুষ। এদিকে, শীত বাড়ায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, ফুটপাতে গড়ে ওঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। কেউ খুব সকালে, কেউবা বিকেলে আবার কেউ কেউ সন্ধ্যায় দোকান বসিয়ে পিঠা বিক্রি করছেন।

সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে চিতই ও ভাপা পিঠার দোকান। আর গরম গরম সেই পিঠার স্বাদ নিতেই দোকানে ভিড় জমান সব শ্রেণির মানুষ। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও দোকানে পিঠা বিক্রি করছেন। এর মাধ্যমে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন। অন্যদিকে শীত মচ্ছবে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতেও ধুম পরেছে হরেক রকমের পিঠা বানানোর।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের খলিফা পট্টি, মজিব সড়ক, কালিবাড়ী, চান্দ আলী মোড়, বাজার স্টেশনে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। এসব দোকানে ভাপা, চিতই, তেলের পিঠাসহ নানান বাহারী পিঠা বানানো হচ্ছে। প্রতিটি পিঠার দাম ১০ টাকা। তবে এখানের মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা বেশির ভাগই দিনাজপুর, সিলেট, কুষ্টিয়া, রংপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার। প্রতি মৌসুমে পিঠা বিক্রির জন্য সিরাজগঞ্জে আসেন এমন ৫০-৬০ জন।

Advertisement

আলাপকালে একজন পিঠা বিক্রেতা বলেন- সাধারণত ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ভাপা পিঠা তৈরি করতে প্রয়োজন চালের গুঁড়া, নারিকেল, খেজুর গুড়। সঙ্গে লবণ, সামান্য পানি দিয়ে গোলাকার এ পিঠার জন্য দরকার ছোট ২টি বাটি। এরপর ২ টুকরো পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে ২-৩ মিনিট ফুটন্ত পানির ভাপ দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ভাপা পিঠা। 

তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এ থেকে খরচ বাদে ৮০০-৯০০ টাকা লাভ হয়।

তার দোকানে দেখা যায় সরিষা, ধনেপাতা, শুঁটকি ভর্তা মাখিয়ে সুস্বাদু চিতই পিঠা খাচ্ছেন সব বয়সের মানুষ। এই পিঠার স্বাদ পেতে রিকশাচালক, দিনমজুর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পিঠার দোকানে ভিড় করছে। সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে পিঠা নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন অনেকেই।

শহরের কাঠেরপুল এলাকার মৌসুমী পিঠা বিক্রেতা ফরহাদ আলী বলেন, আমি গরমের সময় দিনমজুরের কাজ করি। শীতে পিঠার চাহিদা বেশি থাকায় শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করি। আয় ভালোই হয়, পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই আছি।

শহরের স্বাধীনতা স্কয়ার চত্ত্বর এলাকার পিঠা বিক্রেতা শেফালী বেওয়া বলেন, আমি বাসা বাড়িতে কাজ করি। কিন্তু শীত এলেই পিঠা বিক্রি করি। এবার শীত বেশি হওয়ায় পিঠার চাহিদাও বেশি।

পিঠা কিনতে আসা আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, কনকনে শীতের ঠাণ্ডা বাতাসে গরম গরম পিঠা খেতে খুব মজা। আমি তিনটা খেয়েছি, ১০টা নিয়ে যাচ্ছি পরিবারের জন্য।

পিঠা খেতে আসা স্কুলছাত্র নীরব হোসেন ও আশিক জানান, আগে প্রতিদিন চপ, সিঙ্গারা ও পুড়ি খেতাম। শীত আসার পর থেকে প্রতিদিন ভাপা ও চিতই পিঠা খাই। শীতে ভাপা ও চিতই পিঠা খেতে খুব মজা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সুর্য্য বলেন, শীত এলেই মৌসুমী পিঠা বিক্রেতারা প্রতি বছর এই জেলায় আসে। তাদের পিঠাগুলো অনেক সুস্বাদু। মাঝে মাঝে আমিও পরিবারের জন্য এই পিঠাগুলো নিয়ে থাকি। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ এই দোকান। 

সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় বলেন, পথে ঘাটে অনেক পিঠার দোকান বসে। দোকানদাররা অবশ্যই হাত ধুয়ে পিঠা তৈরি করবেন। ক্রেতারা হাত ধুয়ে পিঠা খাবেন। কখনোই পচা ও বাসি খাওয়া উচিত নয়। এতে গ্যাস্ট্রিকসহ ডায়রিয়া হতে পারে। এজন্য সকলকে সচেতন থাকার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!