ইভটিজিংয়ের বিচার চাওয়ায় কৃষককে পিটিয়ে মারল ৪ কিশোর
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের বিচার চাওয়ায় আবু বকর নামে ৫৭ বছর বয়সী এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মোজরাই মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু বকর একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন- মোজরাই মধ্যপাড়া গ্রামের রবির ছেলে ১৮ বছর বয়সী বাবুল, আলমের ছেলে ১৬ বছরের রিশাদ ও সালামের ছেলে পারভেজ।
.png)
ইউপি সদস্য মো. আসাদ মিয়া জানান, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় আহত হন কুলিয়ারচর উপজেলার বীর কাশিমনগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হাসিনা বেগম। উপজেলার রামদী ইউনিয়নে মোজরাই মধ্যপাড়া গ্রামের ওই শিক্ষিকাকে দেখতে আসে একই বিদ্যালয়ের চার ছাত্র-ছাত্রী। ওই সময় রাস্তায় ছাত্রীদের অশালীন কথাবার্তা বলেন একই গ্রামের বাবুল, রিশাদ, পারভেজসহ কয়েকজন কিশোর।
বিষয়টি শিক্ষিকা হাসিনা বেগমকে শিক্ষার্থীরা। এরপর বিষয়টি আবু বকরের স্ত্রী আনিছা বেগমকে বলেন হাসিনা। এ নিয়ে রিশাদের বাবা আলমের কাছে বিচার দেন আনিছা। এরপর ছেলে রিশাদকে শাসন করেন আলম।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবু বকরের বাড়িতে গিয়ে আনিছাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন রিশাদ, পারভেজ, বাবুলসহ আরো কয়েকজন। একই সঙ্গে তাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় আনিছাকে খোঁজার কারণ জানতে চান আবু বকর। পরে তাকে মারধর করেন তারা। বাধা দিতে এলে আবু বকরের ভাতিজা সজীবকেও মারধর করা হয়।
গুরুতর আহত আবু বকরকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে রিশাদ, বাবুল ও পারভেজদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয় লোকজন।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকার উত্তেজিত জনতা ওই কিশোরদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে বলে শুনেছি।