মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রেখা আক্তারের ছেলে। তিনি তার ছেলেকে নিয়ে উপজেলার আবদার গ্রামে ভাড়া থাকেন। শিশুকে কিনে নেয়া সাদ্দাম হোসেন নড়াইলের নরাগাতী উপজেলার কামশিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি আবদার এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় বিবিএস ক্যাবল কারখানায় টেকনেশিয়ান পদে চাকরি করেন।
.png)
শিশুর মা রেখা আক্তার জানান, প্রায় ৫ বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার (ঢালীপাড়া) গ্রামের হারেজ মিয়ার ছেলে তুহিনকে পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি। তুহিনের বাড়িতে আগের বউ থাকায় তিনি (তুহিন) রেখাকে বিয়ের পর তার বাড়িতে উঠাননি। একই এলাকার এক বাড়িতে তুহিন তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে দেন। পেটে বাচ্চা রেখে গোপনে গত ৬-৭ মাস আগে তুহিন সৌদি চলে যান। সৌদি যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে সব প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তুহিন। বিয়ের পর এটাই তাদের প্রথম সন্তান। সন্তান হওয়ার পর বিয়ের ডকুমেন্ট (কাবিননামা) না থাকায় তুহিন তার ছেলেকে অস্বীকার করেন।
তিনি আরো জানান, তুহিনের ঘরে আগের বউ থাকায় তার বাবা হারেজ মিয়া আমাকে বাড়িতে উঠতে দেননি।
শিশুকে কিনে নেয়া সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার দশ বছরের সংসার জীবনে আমি নিঃসন্তান। কোনো সন্তানাদি না হওয়ায় লালন-পালনের জন্য কিনে নিই। শিশুর মায়ের কোনো পরিচয়পত্র না থাকায় এলাকার স্থানীয় কয়েকজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ছেলে শিশু সন্তানকে ৪২ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছিলাম। পরে পুলিশের নির্দেশেই শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিই এবং ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেন আমাকে।
শ্রীপুর থানার এসআই আবু রায়হান জানান, স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারেন; অভাবের তাড়নায় এক মা তার দেড় মাস বয়সী শিশু ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে শিশু ছেলেকে তার মায়ের কোলে তুলে দিই।