বাহারি রকমের পিঠার স্বাদ আশ্বাধনে উৎসব প্রাঙ্গনে পিঠা রশিকেরা ভিড় ছিল চোখে পরার মতো। উৎসবে যোগ দেওয়া নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সীরা মেলায় বাহারি পিঠার সঙ্গে পরিচিতি হয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে আবহমান সাংস্কৃতির অংশ গ্রাম বাংলার পিঠা পুলির পরিচিতি করে দেওয়ার জন্যে তাদের এই প্রয়াস।
.png)
জানা যায়, বাহারী রকমের পিঠা স্থান পেয়েছে উৎসব প্রাঙ্গনে অংশ নেয়া স্টলে। এরমধ্যে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, নারিকেল পুলি, ফুল পিঠা, নকশি পিঠা, ডুবা পিঠা ও পাটি সাপটাসহ গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা হরেক রকমের পিঠা। এসব পিঠার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য উৎসব প্রাঙ্গনে দর্শনার্থীদের যেন কমতি নেই। শিশুদের কেউ পিঠা খাচ্ছেন, বয়স্করা তাদেরকে পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এ যেন চোখ ধাঁধানো এক আনন্দ। বিভিন্ন ধরনের ক্রেতারা উৎসবে এসে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার পিঠার দেখা পেয়ে কিছুক্ষণের জন্যে যেন হারিয়ে গেছেন মধুময় সোনালি দিন গুলোতে।
পিঠা ক্রেতা ইকবাল হোসেন খান নামে বলেন, মেলা প্রাঙ্গণে এসে বিভিন্ন রকমের পিঠা দেখে আমি অভিভূত। ক্ষণিকের জন্যে হলেও যেন ছোট বেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। এখানে আমাদের সময়ের অনেক পিঠাও এসেছে।
তিনি আরো বলেন, এখনকার আধুনিকতার ছোঁয়াতে আমাদের সেই গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। আমরা দাবি করবো এরকম উৎসব যেন আরো বেশি করে হয়। এতে নতুন প্রজন্ম আমাদের পিঠার ঐতিহ্য সম্পর্কে যেন জানতে পারে।
কলেজ শিক্ষার্থী নাইমা সুলতানা বুশরা জানান, এখানে এমনও পিঠা দেখেছি যেগুলো আগে কখনোই দেখেনি। এগুলোর নামও জানতাম না। এখানে এসে নতুন নতুন পিঠার নাম জেনেছি। এরকম আয়োজন হলে আমরা আরো বেশি বেশি করে পিঠা সম্পর্কে জানতে পারবো।
মেলায় স্টল নিয়ে আসা হালিমা চৌধুরী বলেন, এই উৎসবটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছিলো। আজকে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা হরেক রকমের পিঠা এখানে নিয়ে এসেছি। এতে নতুন প্রজন্মের শিশুরা পিঠা সর্ম্পকে অনেক কিছুই জানতে পারবে। এমন আয়োজন আরো করা হলে সবাই এই পিঠা উৎসব সম্পর্কে জানতে পারবে।
আয়োজক আব্দুর রশিদ খান জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্যেই আমাদের এই প্রয়াস।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় এবং গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্যেই আমরা এই আয়োজন করেছি। আগামীতে আমরা আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করার চেষ্টা করব।
বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাই আলী বলেন, আজকে বিজয়নগরে এতো মানুষ পিঠা মেলায় অংশগ্রহণ করেছে, যা দেখে আমি অভিভূত। আমর খুব ভালো লেগেছে।
বিজয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান খান শাওন বলেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন আমাদের ভবিষ্যৎত প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দিবে। মেলায় অংশ নেয়া ১০টি স্টলে স্থান পেয়েছে অন্তত শতাধিক রকমের পিঠা।