জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর পাঁচদিন পর অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা আসতে শুরু করে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসের টাকাসহ বৈশাখ ভাতা ও দুই ঈদের বোনাস জমা হয় কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর সেই টাকা না তুলে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন সন্তানেরা। সোমবার দুপুরে হরিরামপুর উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালা ইউনিয়নের বলর্দি গ্রামের আব্দুল মজিদ মুনশী ছিলেন খলিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ২০০৮ সালে মারা যান তিনি। পরে তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম পেনশনের টাকা পেতেন। গত ১ বছর আগে সুফিয়া বেগমও মারা যান। সবশেষ ৭ মাসের পেনশন ও বৈশাখী ভাতার ৭৬ হাজার ৭০০ তার অ্যাকাউন্টে চলে আসে। পরে তার বড় ছেলে এবং চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ডেপুটি ম্যানেজার মুনশী সোহাগ সোমবার দুপুরে সরকারি কোষাগারে সেই টাকা জমা দেন।
.png)
মুনশী সোহাগ বলেন, আব্বা মারা যাওয়ার পর পেনশনের সব টাকা তুলে ফেলতে চেয়েছিলাম। আব্বার বেশ কয়েকজন কলিগ নিষেধ করলেন এটা করতে। শেষ পর্যন্ত পেনশন থাকল মার নামে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের পেনশনের টাকা আসেনি, কারণ লাইভ ভেরিফিকেশন হয়নি তখনো। আমার স্ত্রী মালিহা আর মা মিলে উপজেলা অফিস থেকে লাইভ ভেরিফিকেশন করে আসল, চালু হয়ে গেল পেনশন। পেনশনের লাইভ ভেরিভিকেশন করে তার দিন পাঁচেকের মাথায় মা চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
মুনশী সোহাগ বলেন, মা চলে যাওয়ার পর মার মৃত্যু সনদ উঠিয়ে পেনশন অফিসে জমা দিতে বেশ কিছুদিন সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। এরমধ্যে অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা আসতেই আছে, যখনই পেনশনের টাকা আসার মেসেজ আসে মার হাসিমাখা মুখটা মনে পড়ে। এভাবে ২২ মার্চ হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসের টাকা, সঙ্গে বৈশাখ ভাতা, দুই ঈদের বোনাস, সব মিলিয়ে ৭৬ হাজার ৭০০ টাকা মার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত জমা হয়েছিল। অবশেষে ঠিক মা চলে যাওয়ার দিনটিতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ক্লোজ করে অতিরিক্ত জমা হওয়া টাকটা সরকারি কোষাগারে জমা করলাম ছোট ভাই রফিকুলকে দিয়ে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, মা মারা যাওয়ার পরে যে টাকা অ্যাকাউন্ট এসেছে, সরকারি কোষাগারে সে টাকা ফেরত দিয়েছেন। এটা অনুকরণীয়।