শাক-সবজি চাষ করে নিজ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে প্রতি মাসে খরচ বাদে তার আয় হচ্ছে ২২-২৫ হাজার টাকা। কঠোর পরিশ্রম আর নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তার বাস্তব উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আলমগীর হোসেন।
এদিকে, তার এই সফলতা দেখে এলাকায় অনেকেই সবজি আবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
.png)
আলমগীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের তারু মিয়ার ছেলে। শাক-সবজি পরিচর্যা আর বিক্রি সব কিছুই তিনি নিজে করছেন। সবজি চাষে কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় তিনি এখন বছরজুড়ে নানা প্রকারের শাক সবজি চাষ করে আসছেন। আর এ চাষে ঘুচিয়েছেন পরিবারের অভাব অনটন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নানা প্রকারের শাক-সবজি নিয়ে তিনি এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমিতে পরিচর্যার পাশাপাশি বিক্রির জন্য শাক-সবজি তুলছেন। শাক-সবজির পরিচর্যা আর বিক্রি নিজেই করছেন। স্থানীয় পর্যায়েও রয়েছে তার শাক-সবজির ভালো কদর।
কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এক সময় তিনি অন্যের জমি ধার নিয়ে ধান-পাট চাষ করতেন। প্রতি মৌসুমে ধান-পাট চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় তার লোকসান গুনতে হতো। কোনো উপায় না পেয়ে ধার-দেনা করে প্রবাসে চলে যান। সেখানে ভালো কিছু করতে না পেরে আবার দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি সবজি চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন।
কৃষি অফিসের পরামর্শে বাড়ি সংলগ্ন দেড় বিঘা জমিতে প্রথমে তিনি লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক, বেগুন দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। ঐ সব ফলন ভালো হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে খরচ বাদে ভালো টাকা আয় হয়। এরপর শাক সবজি চাষের প্রতি তার মনোবল আরো বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে মৌসুম অনুযায়ী সারা বছরই শাক-সবজি চাষ করছেন।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিন সকালে শাক-সবজি বাইসাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ১৩০০-১৫০০ টাকার উপর বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকে তার বাড়ি থেকে সবজি ক্রয় করছেন বলে জানান তিনি।
গৃহিণী মমতাজ বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে কৃষক আলমগীরের কাছ থেকে ক্ষেতের টাটকা শাক-সবজি আমরা ক্রয় করে থাকি। তার শাক সবজি খুবই ভালো।
লিপি আক্তার নামে আরেক গৃহিণী বলেন, এখন শাক-সবজি কেনা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না। প্রতিদিন সকালে বাড়িতে সবজি নিয়ে আসেন। বাজারের দামেই কেনা হয় সবজি।
আদমপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়া বলেন, আলমগীর খুবই একজন কর্মঠ মানুষ। পরিশ্রম ছাড়া কিছুই বুঝে না। তার শাক-সবজি চাষের প্রতি ভালো আগ্রহ রয়েছে। পরিচর্যা আর বিক্রি সব কিছুই তিনি নিজে করছেন। বছরজুড়ে নানা প্রকারের শাক-সবজি চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থান করেছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আলমগীর একজন আদর্শ কৃষক। তিনি বারমাসই নানা প্রকার শাক-সবজি আবাদ ও বিক্রি করে আসছেন। শাক-সবজি আবাদে সরকারি যত সহায়তা রয়েছে তাকে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় কৃষকদেরকে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। সবজি চাষ কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরনরে সবজি চাষ করছেন।