ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যেভাবে মিলল মাটিচাপা দেওয়া লাশের সন্ধান

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১১, ২৩ জুন ২০২৩
যেভাবে মিলল মাটিচাপা দেওয়া লাশের সন্ধান
আটককৃতরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সন্ধ্যার পরপরই বিধানকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয় নির্জন এলাকায়। সেখানে তাকে করানো হয় নেশা। এরই একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় তার মাথায়। উদ্দেশ্য ছিল তাকে অচেতন করার। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। 

এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই মাস পর মাটি খুঁড়ে সেই বিধানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আটক করা হয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে। 

নিহত ২০ বছরের বিধান চন্দ্র সরকার কাহালু উপজেলার শিবাকলমা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম অনীল চন্দ্র সরকার। গত ১১ এপ্রিল রাতে কাহালুর শিবাকলমা গ্রামের ভাদাখালে তাকে হত্যা করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কথা জানতো না পরিবার। ঐদিন বাড়িতে না ফেরায় পরের দিন ১২ এপ্রিল কাহালু থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিধানের বাবা।

Advertisement

আটককৃতরা হলেন- ৩৫ বছরের বিপুল চন্দ্র প্রামাণিক, ৪১ বছরের দিনেশ চন্দ্র ও ২৪ বছরের উৎপল চন্দ্র। তিনজনই কাহালু উপজেলার শিবাকলমা গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে কাহালু উপজেলা থেকে তাদেরকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিমসহ একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাস দেড়েক পর বিধানের বাবার কাছে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। তাকে বলা হয়- ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ছয় লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি। এরপর থেকে বিধানকে খুঁজতে অভিযান আরো জোরদার করা হয়। অবশেষে তার হত্যার কারণ উদঘাটনসহ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাটিতে পুঁতে রাখা বিধানের লাশও উদ্ধার করা হয়। আটক হওয়া তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিধানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, বিধান ও আটক হওয়া তিনজন পূর্ব পরিচিত। বিধানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিধানকে ডেকে নিয়ে সবাই মিলে মদপান করেন। ঘটনার রাতে বিধানের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিপুল ও উৎপল। এরই একপর্যায়ে দিনেশ পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে বিধানের মাথায় আঘাত করেন। এতে বিধান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন উৎপলও বিধানের মাথায় আরেকটি আঘাত করেন। তবে তাদের পরিকল্পনা ছিল বিধানকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলা। কিন্তু আঘাত গুরুত্বর হওয়ার কারণে বিধানকে তারা তাৎক্ষণিক হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

বিধান পাশের নালায় পড়ে থাকায় বিপুল, উৎপল ও দিনেশ তার মাথা পানিতে চেপে ধরেন। এতে বিধানের মৃত্যু হয়। পরে লাশ গুম করতে পাশেই মাটি খুঁড়ে বিধানের লাশ পুঁতে রাখা হয়। তবে তাড়াহুড়োর কারণে বিধানের লাশ মাটিতে ঠিকমতো পুঁতে রাখতে পারেননি তারা।

পরের দিন ভোরে ঘটনাস্থলে আবারো যান বিপুল। তখন তিনি দেখেন শিয়াল মাটি খুঁড়ে বিধানের এক হাত বের করেছে। এমন অবস্থা দেখে বের হওয়া হাতটি আবারো মাটিচাপা দেন বিপুল। এ ঘটনার চার থেকে পাঁচদিন পর বিপুল, উৎপল ও দিনেশ একসঙ্গে বিধানের লাশ উঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গজ দূরে ভালোভাবে মাটিচাপা দেন। পরবর্তীতে বিধানের বাবার কাছে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া শুরু করেন অভিযুক্তরা।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরাফত ইসলাম বলেন, মুক্তিপণ বিষয়ে বিধানের পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদেরকে আটক করা হয়। আটকের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!