এদিকে পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী চলছে পর্যটন মেলা ও কার্নিভাল। মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ এবং রেস্তোরাঁয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এসব ছাড়ের প্রলোভনে কক্সবাজারে এসে হতাশ হয়েছেন অনেক পর্যটক।
তাদের অভিযোগ, বিশাল ছাড়ের খবর পেয়ে তারা কক্সবাজার এসেছেন। কিন্তু কোথাও ছাড় দিচ্ছে না। ছাড়ের কথা বললে রুম ভাড়া দিতেই রাজি হচ্ছে না। একই অবস্থা খাবার হোটেলেও। বাড়িয়ে দিয়েছে মাছ মাংস তরিতরকারিসহ ভাতের দাম। এক কথায় প্রতারণার শিকার হয়ে বিপাকে পড়েছেন আসা পর্যটকরা।
.png)
ঢাকার সাঈদাবাদ থেকে আসা পর্যটক রাহেলা, অমিত ও প্রমীথ বলেন, পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার থাকার হোটেল ও খাবারসহ সব কিছুতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেটি দেখে আমরা ছুটি উপভোগ করতে বন্ধুরা মিলে এসেছি। তবে যে হোটেলে উঠেছি সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া। কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো কোনো হোটেল অতিরিক্ত ভাড়াও চার্জ করছে। তারপর কোনো হোটেল খালি নেই। রুম না পেয়ে অনেকে বাসাবাড়িতে।

কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, চাকরির সুবাদে কক্সবাজার আসতে হয়েছে। এখানে এসে দেখি প্রটোকল দিতে গিয়ে আসল কাজ নানা ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চাঁদপুর থেকে আসা পর্যটক ব্যাংক কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, বিচ ভিউ নামক একটি হোটেলে রুমের জন্য যাই। প্রথমে বলে রুম নেই। পরে একজন লোক এসে বলে রুম আছে তবে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। পরে খাবার হোটেলে গিয়ে দেখলাম সেখানেও কোনো প্রকার ছাড় নেই। এসব লোভ দেখানো ছাড় বলে মন্তব্য করেন এই পর্যটক।
হোটেল মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। এরমধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ছাড়ের বিষয়টি কেউ মানছেন, আবার কেউ মানছেন না।
হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, আমার হোটেলে ৬০ শতাংশ ছাড় দিয়েছি। আপনারা চাইলে আমার হোটেলে যারা আছেন তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোনো নিয়ম মানছেন না।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, আমাদের সমিতির যত হোটেল আছে তারা নিয়ম মেনে ছাড় দিচ্ছেন। তবে কিছু হোটেল ছাড় দিচ্ছে না। এজন্য প্রশাসনের মনিটরিং দরকার।
জেলা প্রশাসনের দাবি- হোটেল রেস্তোরাঁসহ যেসব খাতে ছাড় দেওয়া হয়েছে সেটি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে আলাদা টিম কাজ করছে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার পর্যটক সেলের ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, আমরা যে ছাড়ের কথা বলেছি সেটা কার্যকর করার জন্য আমাদের আলাদা টিম কাজ করছে। যদি আপনাদের কাছে কোনো হোটেল ছাড় দিচ্ছে না- এই রকম কোনো তথ্য থাকলে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা ওই হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব
গেস্ট হাউস রেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটকের সংকট থাকলে শতভাগ হোটেলে ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতেন পর্যটকরা। শুধু তাই নয়, যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন গাড়ির মালিকেরা।