ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার 
প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ৬০ শতাংশ ছাড়ের আশায় অনেকে তিন দিনের ছুটি ও সাত দিনের পর্যটন মেলা ও বীচ কার্নিভাল উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন তিন লক্ষাধিক পর্যটক। কিন্তু হোটেলসমূহের বাস্তব চিত্র উল্টো। ছাড়ের বালাই নেই কোথায়ও। আর যারা ছাড় দিচ্ছেন তারা পূর্বের রেইট থেকে দ্বিগুন বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক। পর্যটন মেলা, বীচ কার্নিভল ও সৈকতে নেমে গোসলে মেতেছেন অনেকেই। কেউবা ঘুরে ঘুরে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ এসেছেন পরিবারসহ, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা। 

এদিকে পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী চলছে পর্যটন মেলা ও কার্নিভাল। মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ এবং রেস্তোরাঁয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এসব ছাড়ের প্রলোভনে কক্সবাজারে এসে হতাশ হয়েছেন অনেক পর্যটক। 

তাদের অভিযোগ, বিশাল ছাড়ের খবর পেয়ে তারা কক্সবাজার এসেছেন। কিন্তু কোথাও ছাড় দিচ্ছে না। ছাড়ের কথা বললে রুম ভাড়া দিতেই রাজি হচ্ছে না। একই অবস্থা খাবার হোটেলেও। বাড়িয়ে দিয়েছে মাছ মাংস তরিতরকারিসহ ভাতের দাম। এক কথায় প্রতারণার শিকার হয়ে বিপাকে পড়েছেন আসা পর্যটকরা।

Advertisement

ঢাকার সাঈদাবাদ থেকে আসা পর্যটক রাহেলা, অমিত ও প্রমীথ বলেন, পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার থাকার হোটেল ও খাবারসহ সব কিছুতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেটি দেখে আমরা ছুটি উপভোগ করতে বন্ধুরা মিলে এসেছি। তবে যে হোটেলে উঠেছি সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া। কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো কোনো হোটেল অতিরিক্ত ভাড়াও চার্জ করছে। তারপর কোনো হোটেল খালি নেই। রুম না পেয়ে অনেকে বাসাবাড়িতে। 

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, চাকরির সুবাদে কক্সবাজার আসতে হয়েছে। এখানে এসে দেখি প্রটোকল দিতে গিয়ে আসল কাজ নানা ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

চাঁদপুর  থেকে আসা পর্যটক ব্যাংক কর্মকর্তা  হুমায়ুন আহমেদ বলেন, বিচ ভিউ নামক একটি হোটেলে রুমের জন্য যাই। প্রথমে বলে রুম নেই। পরে একজন লোক এসে বলে রুম আছে তবে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। পরে খাবার হোটেলে গিয়ে দেখলাম সেখানেও কোনো প্রকার ছাড় নেই। এসব লোভ দেখানো ছাড় বলে মন্তব্য করেন এই পর্যটক।

হোটেল মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। এরমধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ছাড়ের বিষয়টি কেউ মানছেন, আবার কেউ মানছেন না। 

হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, আমার হোটেলে ৬০ শতাংশ ছাড় দিয়েছি। আপনারা চাইলে আমার হোটেলে যারা আছেন তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোনো নিয়ম মানছেন না।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, আমাদের সমিতির যত হোটেল আছে তারা নিয়ম মেনে ছাড় দিচ্ছেন। তবে কিছু হোটেল ছাড় দিচ্ছে না। এজন্য প্রশাসনের মনিটরিং দরকার। 

জেলা প্রশাসনের দাবি- হোটেল রেস্তোরাঁসহ যেসব খাতে ছাড় দেওয়া হয়েছে সেটি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে আলাদা টিম কাজ করছে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার পর্যটক সেলের ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, আমরা যে ছাড়ের কথা বলেছি সেটা কার্যকর করার জন্য আমাদের আলাদা টিম কাজ করছে। যদি আপনাদের কাছে কোনো হোটেল ছাড় দিচ্ছে না- এই রকম কোনো তথ্য থাকলে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা ওই হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব

গেস্ট হাউস রেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটকের সংকট থাকলে শতভাগ হোটেলে ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতেন পর্যটকরা। শুধু তাই নয়, যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন গাড়ির মালিকেরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!