ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘একই পরিবারের একসঙ্গে তিনটি কবর কোনোদিন খুঁড়িনি’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩১, ২ অক্টোবর ২০২৩
‘একই পরিবারের একসঙ্গে তিনটি কবর কোনোদিন খুঁড়িনি’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাশাপাশি খাটিয়ায় মুক্তার হোসেন বাবুল, তার স্ত্রী শাহিদা বেগম ও ছেলে মেহেদী হাসান জয়ের মরদেহ। বাড়ির উঠানে নির্বাক হয়ে বসে আছেন স্বজনরা। ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। মাঝে মধ্যে ডুকরে কেঁদে উঠছেন কেউ কেউ। তাদের যেন ছাড়তেই ছাইছেন না স্বজনরা। তাদের জন্য কবর খুঁড়তে এসে মো. খালেক মিয়া। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক কবর খুঁড়েছি। কিন্তু একই পরিবারের একসঙ্গে তিনটি কবর এর আগে কোনোদিন খুঁড়িনি।’ 

সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের গরুড়ায় নিহত বাবুলের বাড়িতে গিয়ে এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুলবাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তাদের পৃথক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় তাদের। এর আগে, ভোরে ওই তিনজনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনসহ এলাকাবাসী। শেষ বারের মত তাদের মরদেহ দেখতে ভিড় জমান আশপাশের মানুষ।

Advertisement

স্বজনরা জানান, সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনের দাফন করা হয়।

বাবুলের মেজ বোন হাফিজা বেগম বলেন, আমরা এটার সঠিক বিচার চাই। আমার ভাইয়ের পরিবারের মত যেন এমন পরিণতি আর কারো না হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর বলেন, বাবুল ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের সঠিক বিচার চাই। খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।

প্রসঙ্গত, সাভারের আশুলিয়ায় ৬ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে গার্মেন্টস শ্রমিক স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ১২ বছরের ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের জামগড়া ফকির বাড়ি মোড়ের মেহেদী হাসানের ছয়তলা বাড়ির চার তলার একটি ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের এক নারী দরজায় ধাক্কা দেওয়ায় সেটি খুলে যায়। ওই নারী বিছানায় মা-ছেলের মরদেহ দেখতে পান। এ সময় ওই নারী চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়ারা এসে থানায় খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত মোক্তার হোসেনের বড় ভাই আইনাল হক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!