সোমবার বিকেল ৪টায় দিকে ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন রাসেল। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের হাবিব মিয়ার ছেলে।
ঐ ট্রেনে রাসেলের মা রোকেয়া বেগম, ছোট ভাই শামীম মিয়া, ভাগনি ইভা বেগম এবং দুলাভাই শাহ আলম ছিলেন। সবাই বেঁচে যান, তাদের কেউ আহত হননি। কিন্তু সুজন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ছেলের মৃত্যুতে রাসেলের মা রোকেয়া বেগম ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রাসেলের ভাগনিও বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
.png)
রাসেলের ভাই আব্দুল হাকিম আহাজারি করে বলেন, সৌদি আরব যাওয়ার জন্য আমার ভাই রাসেলের সব কিছু প্রস্তুত হয়েছিল। আগামী ২৫ অক্টোবর তার ফ্লাইট ছিল। তাকে ঢাকায় রেখে আসতে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলাম। সঙ্গে আমার মা, ভাগনি দুলাভাইসহ আমিও ছিলাম। আমরা বেলা ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ট্রেনে উঠেছিলাম। যে বগিতে আমরা ছিলাম সেখান থেকে মা, ভাগনি দুলাভাইসহ আমি অক্ষত বের হয়েছি। কিন্তু আমার ভাইকে অক্ষত পেলাম না, তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছি। ভাইয়ের আর সৌদি আরব যাওয়া হলো না। ট্রেনের বগিতে প্রচণ্ড ভিড় ছিল, বের হওয়া খুব কষ্টের ছিল।
সোমবার বিকেল ৪টায় দিকে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। এখন পর্যন্ত ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। প্রাণহানি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, বিকেল ৪টার দিকে কন্টেইনারবাহী ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এর আগ মুহূর্তে ভৈরব থেকে এগারোসিন্ধুর ট্রেন ঢাকার দিকে রওনা হয়। পথে জগন্নাথপুর রেল ক্রসিং এলাকায় কন্টেইনারবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন এগারোসিন্ধুর ট্রেনের শেষের দুই-তিনটি বগিতে আঘাত করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এগারোসিন্ধুর ট্রেনের শেষের দুই-তিনটি বগিতে ট্রেনের শেষের দুই-তিনটি বগি।