আবার বাজারের একপাশে রয়েছে মাছ কাটার নিদিষ্ট স্থান। যেখানে সারিবদ্ধভাবে মাছ কাটছেন বেকার যুবকসহ অনেকেই। ভোর হলেই ব্যস্ত সময় পার করে তারা। বাসায় মা কিংবা স্ত্রীদের কষ্ট দিতে চায় না এমন মানুষ এইখান থেকে মাছ কেটে নেয়। কেজি প্রতি মাছ কাটা ১০ টাকা করে। দুই চার দশ কেজি করে কেটে নেন একেকজন।
আবার বিয়ে বাড়ি কিংবা বড়বড় অনুষ্ঠানের জন্যেও মাছ কাটা হয় এইখানে। মাছ কাটছেন ১০ থেকে ১৫ জন যুবক। পেশাদারিত্ব মাছ কেটে একেকজন আয় করে মাসিক ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কখনো কখনো আরো বেশি টাকার মাছ কাটতে পারেন কেউ কেউ।
.png)
জেলা শহরের সবচেয়ে বড় মাছ বাজার হওয়ার কারণে এমন সুযোগ পায় মাছ কাটার সঙ্গে জড়িত লোকজন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বড় দা বটি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসে মাছ কাটছেন পেশার সঙ্গে জড়িত সবাই। মনে হচ্ছে কারো ধম ফেলার ফুসরত নেই। অপরদিকে মাছ হাতে নিয়ে কাটার অপেক্ষায় আছে বেশ লোকজন। রুই, বোয়াল, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, ইলিশসহ সব ধরণের মাছ কাটেন তারা। আবার চিংড়ি কিংবা ছোট ছোট মাছ কাটারও ব্যবস্থা আছে তাদের কাছে। পরিশ্রম ছাড়া একটি দা-বটি আর হাতের মুজাই তাদের মূলধন। ভোর ৬ টায় আসতে হয় তাদের। এমন কর্মযজ্ঞ চলে রাত একটা পর্যন্ত।
কথা হয় মাছ কাটার সঙ্গে জড়িত আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে তিন মাছ কাটেন। প্রতিদিন ৫শ থেকে ৮শ টাকার মাছ কাটেন। তবে গড়ে দৈনিক ৭শ টাকার মাছ কাটতে পারেন। কখনো কখনো আরো বেশি হয়। এভাবে আব্দুর রহমানের মতো বাকীরাও দৈনিক ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মাছ কেটে আয় করতে পারেন। মাছ কেটেই যাদের মাসিক আয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
একেকজনের পরিবারে অন্তত তিন থেকে সাত জন মানুষ চলে মাছ কাটার আয় দিয়ে। পরিবারের সবাইকে পরিচালনার পাশাপাশি সঞ্চয়ও করতে পারেন তারা। তাই বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে তারা এই পেশা বেছে নিয়েছেন।
মাছ কাটতে আসা আব্দুল্যাহ বলেন, বাসায় বিভিন্ন ঝামেলা থাকে, বৃদ্ধ মা বাবা, ছোট বাচ্চা আছে। মাছ কিনে বাসায় নিলে কাটতে সময় হবে না। তাই বাজার থেকে মাছ কেটে নিচ্ছি। এতে করে সময় বাঁচবে আর স্ত্রীর প্রতি চাপ কম পড়বে। শুধু স্ত্রী নয় যাদের বৃদ্ধ মা আছে কিংবা ব্যাচেলর থাকেন তাদের জন্য বাজারে মাছ কেটে নেয়াটাই উত্তম বলে মনে করেন সুবিধাভোগী এসব মানুষ।