এক বিঘা দিয়ে কৃষিকাজ শুরু করলেও এখন তিনি ১৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি ফলান। শুধু তাই নয় তার আশপাশের মানুষজনকে উৎসাহ দিয়ে পেঁপেসহ নানা সবজি ফলাতে সহযোগিতা করছেন প্রতিনিয়ত।
সফল কৃষি উদ্যোক্তা বাবুল বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। আমাদের এলাকার মাটি ও আবহাওয়া গাজর চাষের জন্য খুব উপযোগী। এই এলাকা গাজর চাষের জন্য বিখ্যাত। গাজরের আবাদ দিয়েই আমার কৃষিকাজের হাতেখড়ি। তারপর মিষ্টি কুমড়া, দেশি লাউ, ধনিয়া, পেঁপেসহ নানা সবজি আবাদে নিজেকে রপ্ত করেছি। মূলত গাজর চাষ করেই সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করে থাকি। এর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে পেঁপে, ধনিয়া চাষ করে থাকি। গাজরের ফলন শেষ হয়ে এলে কিছুদিন পর পেঁপের ফলন আসতে শুরু করে। তাতেই সারা বছর কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হচ্ছে।
.png)
তিনি আরো বলেন, এবার ৬ বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ করেছি। সব মিলে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে এরই মধ্যে পেঁপে বিক্রি করেছি ১৮ লাখ টাকার। আরো ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করা যাবে। এই কৃষিকাজ করেই আমার পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। আমার তিন ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাকে এই কাজে সাহায্য করে থাকে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সবচেয়ে বেশি পেঁপের আবাদ হয়। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমির কারণে সিংগাইরের পেঁপের আকার ও মান ভালো। কম খরচে চারা রোপণের ৪ থেকে ৫ মাসেই ফলন পাওয়া যায় বলে উপজেলায় পেঁপের আবাদে জড়িয়েছেন স্থানীয় প্রায় আড়াই হাজার কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে ৬শ’ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যা চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ আশুলিয়া, বাইপাইল, সাভার, গাজীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকাররা ক্ষেত থেকেই পেঁপে কিনে নিয়ে যান।
একই গ্রামের কৃষক শামসুল হক জানান, গাজরের পাশাপাশি আমাদের এ অঞ্চলে এখন পেঁপে চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁপের ফলন এবার অনেক ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় সব মিলে আমাদের খরচ প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আর বিঘায় ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ গাছ লাগানো যায়। মৌসুমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিকেজি পেঁপে পাইকারি বিক্রি হয় গড়ে ১৮ থেকে ২০ টাকায়। আর পাইকাররা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যান বলে আমাদের তেমন কষ্ট করতে হয় না।
উপজেলার ভাকুম এলাকার পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রবকত হোসেন জানান, আমাদের সিংগাইরে প্রচুর পরিমাণ সবজির আবাদ হয়। একেক মৌসুমে আমরা একেক সবজি কিনে তা দেশের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে থাকি। আমাদের সিংগাইর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ ব্যাপারী আছে। বর্তমানে আমি প্রতিদিন আমাদের এলাকার পেঁপে কিনে তা ঢাকাসহ গাজীপুর, নোয়াখালী, ফেনীতে বিক্রি করছি। সিংগাইরের পেঁপের স্বাদ ও আকার ভালো হওয়ায় আড়তগুলোতে খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী জানান, সিংগাইর উপজেলার এবার সাড়ে ৬শ’ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের গাজরের সাথী ফসল হিসেবে পেঁপে চাষ করে করতে পরামর্শ দিয়ে থাকি। কারণ গাজরের ফলন শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর পেঁপের ফলন আসা শুরু করে। তাছাড়া স্বল্প সময়ের জন্য সাথী ফসল হিসেবে ধনিয়াও করেন অনেক কৃষক। এতে করে প্রতিটি কৃষক আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে। এ মৌসুমে সিংগাইর উপজেলায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার পেঁপে বিক্রি আশা কৃষি বিভাগের।