লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের জেলা প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিদিনই এসব পিঠা বিক্রি করেন স্থানীয় আব্দুল্যাহ নামের এক ব্যবসায়ী। তার মতো জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে আরো অন্তত ১০টা দোকান রয়েছে। ভ্যানে ফেরি করে পিঠা বিক্রি করেন তারা।
শীত আসলেই সব স্থানে দেখা যায় পিঠার দোকান। সবকটি পিঠার আলাদা আলাদা রহস্য রয়েছে। ২০ থেকে ৩০টি আইটেমের ভর্তা দিয়ে পিঠা খায় উৎসক মানুষ। গরম জাল পিঠা খেয়ে অনেকের চোখে মুখে পানি চলে আসে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে খুবই মজা নিয়ে খান এসব পিঠা। শুধু জাল পিঠা নয়, কদর রয়েছে ভাপাসহ শীতকালীন বিভিন্ন জাতের পিঠার।
.png)
পিঠা খেতে আসা রাজিব হোসেন রাজু বলেন, শীতের এ সময় আমরা বন্ধুরা সবাই এক সঙ্গে পিঠার দোকানে আসি এবং স্বাদ নিয়ে পিঠা খাই। প্রতি পিস পিঠা ১০ টাকা, জাল জাল পিঠা খেতে ভারী মজা। একই কথা বলছেন রাজিবের বন্ধু শাকিল। আয়োজন করেই তারা পিঠা খেতে আসেন তারা। কেউ কেউ পরিবার পরিজন নিয়েও বাসা থেকে বের হন শুধু বিভিন্ন আইটেমের ভর্তা দিয়ে পিঠা খেতে।
লক্ষ্মীপুর শহরের হ্যাপী হল সড়ক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন, বাজারের বড় ব্রিজে। আদর্শ সামাদ স্কুল সংলগ্ন মোড়ে, উত্তর স্টেশন, ঝুমুর স্টেশন, দক্ষিণ তেমুহনীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এভাবেই বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন জাল পিঠা। তবে দিনের চেয়ে সন্ধ্যা নামলে প্রতিটি দোকানে ভিড় জমে যায়। অনেকাংশ সময়ে পিঠার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু হয়। ফলে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা।
পিঠা বিক্রেতা আব্দুল্যাহ বলেন, প্রতিদিন বিকেল ৪ টায় আসেন আর রাত ১০ টায় বাড়ি ফেরেন। দৈনিক বিক্রি হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কখনো কখনো দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি হয়। গড়ে দুই হাজার টাকা বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক সঞ্চয় থাকে ১৫ শ টাকা। মাসে ৪৫ হাজার টাকা।
লক্ষ্মীপুর বণিক সিমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আজীজুর রহমান বলেন, বাজারের বিভিন্ন স্থানে অলিগলিতে ফেরি করে ভ্যানে করে পিঠা বিক্রি করেন কয়েকজন যুবক। তাদের ছোট দোকানে সবসময় ভিড় লেগে থাকে। ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান যুব সমাজ বেকার না থেকে ছোট ছোট ব্যবসা করে অনেক বড় মূলধনের মালিক হতে পারেন। যেমনিট করে যাচ্ছেন এসব ফেরি করে পিঠা বিক্রেতারা। কোনো ধরণের ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিগ্নে চলছে বেচাকেনা।